
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্লান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএসপিএসটি)’র ৪র্থ জাতীয় সম্মেলন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই কৃষির জন্য উদ্ভিদ বিজ্ঞান’ যা বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও গবেষণায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনে।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএসটির সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ড. সাদিয়া আরেফিন জুথী। স্বাগত ভাষণ দেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বিএসপিএসটির মহাসচিব ড. মো. আব্দুল বাসেত মিয়া।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বাকৃবির অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান আলী ফকির। উদ্ভিদবিজ্ঞানের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কৌশল ও ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা উঠে আসে তাঁর উপস্থাপনায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারজনকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান সংগঠনের সহ–সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য ড. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের অস্তিত্বের মূলভিত্তি হলো উদ্ভিদ। বিশুদ্ধ অক্সিজেন থেকে শুরু করে ছায়া, কাঠ, খাদ্য—জীবনের প্রায় সব উপাদানই আমরা উদ্ভিদ থেকে পাই। অথচ এ নিয়ে দেশে আলোচনা ও সচেতনতা আশানুরূপ নয়।”
তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘প্ল্যান্ট সেক্টর’ নিয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। তবে নীতিমালা শুধু কাগজে–কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিদেশের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, "উন্নত দেশগুলোতে সরকারিভাবে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গবেষণা পরিচালনা করে। আমাদের দেশেও এ বিষয়ে উদ্যোগ বাড়াতে হবে।”
শেষে তিনি বিএসপিএসটির ক্রমোন্নত সাফল্য কামনা করেন।"
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ পিএইচডি ও এম.এস পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
জয় মন্ডল/আমার বার্তা/এমই

