‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কলেজ ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। ঘণ্টাখানেক চলতে থাকে এই অবস্থা। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছায়। পরে পুলিশ ও কলেজশিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতিতে নিচে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস।’ পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল ছাত্র গিয়ে সেখানে ছাত্র শব্দটি মুছে দেন এবং তার ওপর লিখে দেন ‘গুপ্ত’।
এই ঘটনার একটি ভিডিও মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আইডিতে পোস্ট করেন। এ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে আজ কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়ান উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমরা বুঝিয়েছি, মারামারির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ হলে কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। বিষয়টা শিক্ষার্থীরা বুঝেছে। এই অবস্থায় দুপুরের পর থেকে এবং বিকেলের শিফটে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বিন সাব্বির জানান, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ছাত্রদলের হামলায় তাঁদের কয়েকজনের আহত হওয়ার কথা জানান তিনি।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দীকি রনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শিবির এখানেও গুপ্ত রাজনীতি করতে চায়।’
এ বিষয়ে সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকেরা নিয়ন্ত্রণ আনতে চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর কোনো সমস্যা হয়নি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দীর্ঘ কয়েক যুগ ছাত্রলীগ একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। গত ৫ আগস্টের পর নিয়ন্ত্রণ হারায় সংগঠনটি। বর্তমানে ছাত্রদল-শিবির উভয় সংগঠনের কার্যক্রম কলেজে বিরাজমান।
আমার বার্তা/এমই
