জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: আসল ছবি আড়ালে, এআই ছবি ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১০:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তের আসল ছবির পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র সমালোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া প্রকৃত ছবিকে এআই-এর মাধ্যমে বিকৃত করে প্রচার করায় অপরাধী শনাক্তের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো ঘটনায় এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ভুক্তভোগী এবং বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সেসময় সাংবাদিকদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে দেওয়া হয়নি এবং তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে চরম অসহযোগিতা করা হয়েছে। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও এই কৃত্রিম ছবিই সরবরাহ করা হয়।
সেখানে অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানান, লামিসার নেতৃত্বে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বাধা প্রদান করে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং একজন সহকারী প্রক্টর চাপ প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের দূরে রাখেন। লামিসাকে একাধিকবার ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্কসহ একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে আলোচনা করতে দেখা যায়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গ্রুপে অভিযুক্তের এআই-জেনারেটেড ছবি ছড়িয়ে পড়ে।
দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই ভুল ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সংশোধনী বা ব্যাখ্যা না দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে- যাকে প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
টানা দুই দিন এআই-জেনারেটেড ছবি প্রচারের পর, আজ শুক্রবার রাতে অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজ ও অভিযুক্তের আসল ছবি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। লক্ষণীয় যে, ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য দেওয়া পোস্টেও এই এআই ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অপেশাদার আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীনতা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বড় ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। সাংবাদিকদের তথ্য পেতে বাধা দেওয়া এবং সঠিক তথ্য প্রচারে অসহযোগিতাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন তারা।
জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘সেদিন এআই জেনারেটেড একটা ছবি দিয়ে অভিযুক্তের চেহারা ও মাদরিদের জার্সি পরিবর্তন করা হয়েছে। ভিক্টিমের দোহাই দিয়ে সেদিন জাকসুর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ভেতরে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজও দেখতে দেওয়া হয়নি, যখন ওনারা ভেতরে গিয়েছিল ততক্ষণে এআই জেনারেটেড ছবি প্রকাশ করে সবাইকে বিভ্রান্ত করা হয়ে গেছে। কারা সেদিন সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করতে দেয়নি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সবকিছুর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে।’
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুভমেন্টের কারণে ছবি স্পষ্ট আসছিল না। এ কারণে ভেতরে চারটি ছবি ক্লিয়ার হয় এবং ভুক্তভোগীকে ছবিগুলো দেখানো হয় না। এরমধ্যে ভুক্তভোগী যে ছবিটি সিলেক্ট করেন এবং সবথেকে বেশি মিল পাওয়া যায় সেই ছবিটি আমি বাইরে এসে সাংবাদিক এবং অন্যান্যদের দেই।’
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এআই এনহ্যান্সড ছবিটি কাউকে দিইনি। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে মূল ফুটেজই দিয়েছি। তবে পাবলিকলি ছবিটি আমরা প্রকাশ করিনি। আমাদের আরও আগেই ছবিটি প্রকাশ করলে ভালো হতো।
