রমজানের শুরুতেই বেড়ে যাচ্ছে যানজট

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  নিত্য গোপাল তুতু:

প্রতিবছর রমজান মাস এলেই ঢাকায় বেড়ে যায় যানজটের তীব্রতা। এবারও যানজটে ভুগতে হচ্ছে নগরবাসীকে । প্রধান সড়কের পাশে অপর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা, কাউন্টার সার্ভিসের নামে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলাসহ নানান কারণে রোজা শুরুর আগ থেকেই এ আশঙ্কা করছেন রাজধানীবাসী। নগরবাসী  বলছেন, রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।  প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব ধরনের বিদ্যালয়ে রমজানে ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ) থেকেই। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। তবে ওই দিন বৃহস্পতিবার হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি থাকবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ) রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সড়কে ব্যাপক যানজট। যানজট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ নুর হোসেন আমার বার্তাকে বলেন, সড়কে যানজট নিরসনে মাঝেমধ্যে হিমশিম খেতে হয়। রামজানের শুরু থেকেই সড়কে যানজট শুরু।

রাজধানীর মতিঝিলে একটি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেন গাফ্ফার মিয়া। তিনি জানান, প্রতিদিন মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। এ ছাড়া বাসও পাওয়া যায় খুব কম। রোজার সময় অফিসের সময়সূচির সঙ্গে বাসে ওঠা কঠিন হয়ে যায়।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিদিন বাড্ডা থেকে গাজীপুর স্টেশন রোড যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। রোজার সময় অফিস সাড়ে ৩টায় ছুটি হলে বাসায় এসে ইফতার করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। এই সময় সরকারের উচিত রাস্তায় উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা, সেই সঙ্গে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। যাতে র্নিবিঘ্নে মানুষ বাসায় পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারে। রোজার মাসে ঢাকার মানুষ যাতে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্কাউট এবং বিএনসিসির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। তা ছাড়া বর্তমানে ট্রাফিক সহায়তায় থাকা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

এ বিষয়ে রমনা ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. আশিকুর রহমান আমার বার্তাকে জানান, রোজার সময় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্টুডেন্ট টিম, বিভিন্ন সোসাইটির ভলন্টিয়ারও থাকবে। বর্তমানে সড়কে যানজটের কারন হিসেবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন সচিবালয় অফিস করতে আসেন তখন রমনা এলাকায় একটি বাড়তি প্রেসার থাকে। রমজান মাস হওয়ায় অফিসের টাইম পরিবর্তন হওয়ায় সেটিও একটি চাপে থাকতে হয়। এছাড়া ঈদের মার্কেট শুরু হওয়ায় সড়কে আরো বাড়তি চাপ পড়েছে।

যানজট এড়াতে বছরের অন্যান্য সময় রাজধানীতে অফিস-আদালত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে শুরু হয়। কিন্তু রমজানে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। আবার ছুটিও হয় কাছাকাছি সময়ে। সবারই ইফতারের আগে ঘরে ফেরার তাড়া থাকে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে রমজানে সকালে এবং দুপুর থেকে ইফতার পর্যন্ত তীব্র যানজট থাকে। যানজট নিরসন করে ঢাকাকে গতিময় করতে মেট্রোরেল, উড়াল সড়ক, সড়ক প্রশস্তকরণ, ফ্লাইওভার নির্মাণসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে মেট্রোরেলের একটি রুট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়ার পাশাপাশি শহরের মধ্যে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করেছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বারবার বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা বলা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি রাজধানীর যানজট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের সড়কে গাড়ির চাপ সব সময়ই থাকে। কিন্তু রমজানে স্বল্প সময়ের মধ্যে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ছুটি হওয়ার কারণে এই চাপ অনেক বেড়ে যায়।


আমার বার্তা/এমই