ঢাকার পাড়া-মহল্লায় চলছে পশু কোরবানি

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ঢাকার অলিগলি, মহল্লা, আবাসিক এলাকা ও অট্টালিকার নিচতলা সবখানেই চলছে পবিত্র ঈদুল আজহার পশু কোরবানি। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেই কোরবানি দেওয়া শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। নগরবাসী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই পালন করছেন ঈদুল আজহা।

সকালে রামপুরার জামতলায় গলিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মিলে গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশুসহ নানা বসয়সীর মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, এটি ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আমরা প্রতিবছর পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে কোরবানি করি। এতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

রামপুরার আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, শিশুরা সকাল থেকেই খুব আনন্দ করছে। তারা গরুর পাশে ঘুরছে, মাংস কাটার কাজ দেখছে। ঈদের এই পরিবেশ বছরে একবারই আসে।

শফিকুল ইসলাম নামের আর একজন বলেন, কয়েকটি পরিবার মিলে যৌথভাবে একটা গরু কোরবানি দিচ্ছি। আগে সবাই আলাদাভাবে কোরবানি দিত। এবার আমার মতো অনেকেই একসঙ্গে গরু কিনে কোরবানি করছেন। এতে খরচ কিছুটা কমে, আবার সামাজিক বন্ধনও তৈরি হয়।

মিরপুর থেকে মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে গরু কোরবানি দিয়েছি। আমরা ৪ জন মিলে এবার ভাগে কোরবানি দিলাম।

তিনি বলেন, এবার অনেকেই অনলাইনে ভাগে কোরবানি দিচ্ছে। আসলে এতে আনন্দ তেমন নেই। কোরবানির গরুর কাছে নিজে থাকতে না পারলে মনে শান্তি লাগে না। বাসার সামনে কোরবানি দিচ্ছে পরিবারের শিশুরা অনেক আনন্দ করছে। আল্লাহ যেন আমাদের কোরবানি কবুল করেন সেই দোয়া করছি।

কসাই রিপন মিয়া বলেন, সকাল ৭টার পর থেকেই কাজ শুরু করেছি। আজকে অন্তত সাতটা গরু জবাই করতে হবে। ঈদের সময়ই আমাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয়।

আর এক কসাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ আমরা অনেক ব্যস্ত। এই গরু কেটে মোল্লা বাড়ি যাবো, সেখানে ৩টা গরুর কাটতে হবে। এরপর জাকের গলিতে আরও দুটি গরু কাটার কাজ আছে।

এদিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ঈদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাক পরে তারা কোরবানির পশুর মাংস কাটা দেখছে। কেউ কেউ বড়দের কাজে সহায়তা করছে।

রামপুরার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, সকালে নামাজ পড়েই বাসায় চলে এসেছি। আব্বু ও বড় আব্বুর সঙ্গে কোরবানির গরু জবাই করা দেখেছি। ইচ্ছে আছে আব্বু সঙ্গে নানু ও খলার বাসায় মাংস দিয়ে যাবো।


আমার বার্তা/জেএইচ