ওয়ারীতে ডিবি পরিচয়ে ৫৭ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ডাকাত চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৩:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঈদুল আজহার আগের রাতে রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবস্থাপককে (ম্যানেজার) মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একটি চক্র।
পরে অবৈধ মাদক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে চোখ-মুখ বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভুক্তভোগী দুজনকে ফেলে রেখে যায় চক্রটি।
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) থানা পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা এসব তথ্য জানান।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন— শহিদুল ইসলাম মাঝি (৬০), আব্দুল মালেক (৫৫), মনির হোসেন (৪৫), ইউসুফ কাজী (৬৫), রাইসুল ইসলাম (৩৪), আরিফুল ইসলাম (৩৪), আফজাল হোসেন (৩০), তিন্নাথ পাল (৩৮) ও রিপন পাল (৩৬)।
মাসুদ রানা বলেন, গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের রাতে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড় এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবস্থাপক ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়।
পরে ভুক্তভোগীদের কাছে অবৈধ মাদক রয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। চোখ-মুখ বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কমলাপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।
এ ঘটনায় হরিপদ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার বলেন, মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওয়ারী থানা পুলিশের একটি দল শনিবার সকালে ইত্তেফাক মোড় এলাকায় পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রটির ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ডিবি জ্যাকেট (কটি), একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ওয়াকি-টকি সেট, এক জোড়া হাতকড়া (হ্যান্ডকাফ), দুটি লাঠি ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ও তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৫৭ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ১৭ ভরি গলানো স্বর্ণ, স্বর্ণ বিক্রির ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাসুদ রানা বলেন, পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার বার্তা /জেএইচ
