কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারের প্রস্তাবিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক 'স্পোর্টস ভিলেজ' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শুক্রবার সকালে স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম প্রসারে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

স্টেডিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মতো মনোরম একটি জায়গায় বর্তমান অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক এবং জরাজীর্ণ। মাঠের অবস্থা কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও খেলোয়াড় ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই বললেই চলে। বিগত সময়ে এই প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি না হলেও বর্তমান সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শুধু ক্রিকেট নয় বরং ফুটবল, ইনডোর গেমসহ সব ধরনের খেলার সুবিধাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের চিন্তা রয়েছে তাদের।

প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমিনুল হক জানান, ঢাকায় ফিরে তিনি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ক্রিকেট ও ফুটবল বোর্ডের নীতি-নির্ধারকদের সাথে জরুরি আলোচনায় বসবেন। বিশেষ করে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় ফ্লাড লাইট স্থাপনে সিভিল এভিয়েশনের যে বিশেষ বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা দক্ষ স্থপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আলোকসজ্জার বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যালারির প্রথাগত কাঠামোর বাইরে ঘাসের ওপর বসে বা শুয়ে খেলা দেখার যে সংস্কৃতি বিদেশে রয়েছে, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তেমন কিছু করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পোর্টস ট্যুরিজম স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিসিবি ও পর্যটন করপোরেশনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা অবসানের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, অতীতে সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন সব পক্ষ একযোগে 'সোজা রাস্তায়' উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। নতুন এই যাত্রায় তিনি সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এরপরে প্রতিমন্ত্রী সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে তার বিভিন্ন খোঁজখবর নেন। এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।