নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ
রিমান্ড শেষে অভিযুক্ত সেই মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১৮:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

নেত্রকোণায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই মাদরাসা শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেনারেল রেজিস্টার অফিসার (জিআরও) থেকে জানা গেছে, রোববার (১০ মে) বিকেলে ওই মাদরাসা শিক্ষককে আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দীন মারা যাওয়ায় অন্যান্য আইনজীবীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। কোনো আইনজীবী না থাকায় উন্মুক্ত আদালতে আসামিকে উপস্থাপন করা হয়নি। আগামী ২১ মে আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। সে অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ বিকেলে আসামিকে আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়। ডিএনএ সংগ্রহের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিএনএ এখনো সংগ্রহ করা হয়নি। এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তবে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রিমান্ড চলাকালীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আখতারুজ্জামান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম ইতোমধ্যে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, যেখানে সে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে।
গত সপ্তাহে র্যাব-১৪-এর একটি দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) নেত্রকোণার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন থাকলেও পরবর্তীতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে।
আমার বার্তা/এমই
