আইসিইউ সাপোর্টের অভাবে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মো. সামিত (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। জেলায় চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
মৃত সামিত জেলার সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৬২ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য একজন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে। এদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার উচ্চমাত্রার জ্বর, শরীরে র্যাশ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসিইউয়ের সুবিধা না থাকায় অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে জেলায় হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার বিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। আমরা তাদের আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।
