চট্টগ্রাম বিআরটিএ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ: পরীক্ষা ছাড়াই ‘চালক’ বানানোর কারসাজি, ঝুঁকিতে সড়ক নিরাপত্তা

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  ​আব্দুল্লাহ আল নোমান শুভ

​দেশের সড়কগুলোতে প্রতিদিন ঝরছে অগণিত প্রাণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের প্রধান শর্ত দক্ষ চালক তৈরি হলেও, খোদ সরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।

চট্টগ্রামের বায়েজীদ এলাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রশিক্ষণকেন্দ্রের এক ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধ অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

​অভিযোগে জানা যায়, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মৌখিক চুক্তি করেন সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রামের  বিআর টি এ  প্রশিক্ষক বাদশা।  একটি গোপন ভিডিওচিত্রও অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। 

​১৩ হাজার টাকার ‘প্যাকেজ’: পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্সের আশ্বাস!

​ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক (ফিল্ড টেস্ট)- কোনো ধরনের দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন অভিযুক্ত  প্রশিক্ষক বাদশা। এ জন্য তারা  নির্ধারণ করেন ১৩ হাজার টাকার একটি বিশেষ চুক্তি।

​ভিডিওচিত্রে ওই প্রশিক্ষকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী খরচের হিসাবটি ছিল এরকম সরকারি ব্যাংক ড্রাফট ফি: ৫,০০০ টাকা কথিত আনুষঙ্গিক ও সমঝোতা খরচ: ৮,০০০ টাকা সর্বমোট দাবি: ১৩,০০০ টাকা।

​অতিরিক্ত টাকা কার পকেটে? উঠছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন

​বিআরটিএর নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্সের আবেদন ও পরীক্ষার ফি সুনির্দিষ্ট এবং তা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য। সেখানে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক ও দালাল চক্র দাবি করা অতিরিক্ত ৮ হাজার টাকার কোনো সরকারি রসিদ বা বৈধ খাত নেই।

​স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এই অতিরিক্ত অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে? একজন ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের গাড়ি চালানো শেখানো; লাইসেন্স অনুমোদন বা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো প্রশাসনিক এখতিয়ার তাঁর থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তা নিয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এর শেকড় কেবল একজন প্রশিক্ষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ কম। এর পেছনে কোনো সমন্বিত দালাল চক্র কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার যোগসাজশ থাকতে পারে।

​জাতীয় সংকট ও সড়কের নিরাপত্তাঝুঁকি

​টাকার বিনিময়ে অদক্ষ ও পরীক্ষা ছাড়া চালকদের হাতে লাইসেন্স তুলে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি। যথাযথ দক্ষতা যাচাই ছাড়া রাস্তায় নামা চালকরা প্রতিনিয়ত তৈরি করছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

​অনুসন্ধান অব্যাহত: চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে

বায়েজীদ বিআরটিএ প্রশিক্ষণকেন্দ্র ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ কেবল একজন ব্যক্তির ভেতরেই সীমাবদ্ধ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না-তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আসছে পরবর্তী পর্বে।