কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৫ জেলা থেকে ১১ মরদেহ উদ্ধার
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের পাঁচটি জেলা থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নওগাঁ, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে এক নারী ও নবজাতকের মরদেহ। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তিন যুবক এবং খুলনা ও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আমার বার্তার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন খুন
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমার মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন-উত্তর শীলখালী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুর বশর (২০)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ের পূর্ব পাশে কাজ করতে গেলে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো গয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ের পাশ থেকে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলে জানান। আরো দুইজন নিখোঁজ আছে জানিয়ে হুমায়ুন কাদের বলেন, তাদের সন্ধান পেতে খোঁজ চলছে।
বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর সেতুর পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয়রা ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মাটি খুঁড়ে ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করে আনার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তার মৃত্যুর সময় নবজাতক প্রসব হয়। পরে দুইজনকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সোমবার রাগ আটটার দিকে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিরালার ৭ নম্বর রোডের এফ-৮৫ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
নিহতের নাম উৎস রায়। তিনি দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা কনক কান্তি রায়ের ছেলে এবং নগরীর নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই হতাশা থেকেই তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সিরাজগঞ্জে অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদীর পাশ থেকে জাহের আলী আকন্দ (৬৫) নামের এক অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সলঙ্গা থানার ফুলজোড় নদীর কালিকাপুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জাহের আলী আকন্দ সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত ইনসাফ আলী আকন্দের ছেলে।
সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম উদ্দিন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় জাহের আলী আকন্দ অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। আজ সকালে ফুলজোড় নদীর কালিকাপুর এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
আমার বার্তা/এমই
