সরবরাহে নেই ঘাটতি, তবুও রোজার আগে চড়া দামে ছোলা-চিনি
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আবারও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। এর সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি ও ছোলার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শীত কমার আগেই সরবরাহ কমার অযুহাতে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দামও।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগেও যা বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ছোলার দাম। চিনির দাম অবশ্য দুই সপ্তাহ আগেই প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে সেই দামও আরও অন্তত ৭-৮ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, দেশে বছরে ছোলার চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টন। এর থেকে অন্তত ১ লাখ টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। আর চিনির সরবরাহেও ঘাটতি নেই। রোজায় চিনির চাহিদা থাকে প্রায় তিন লাখ টন। রোজা সামনে রেখে গত প্রায় তিন মাসে চিনি আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ টন। গত বছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার টন। মূলত, রোজার আগে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শুধু ছোলার দামই নয়, বাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে অন্যান্য ডালের দামও। অ্যাংকর ডালের কেজি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। অ্যাংকরের পাশাপাশি ছোট দানার মসুর ডালের দামও কিছুটা বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা দানার মসুর ডালের দাম কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একমাস আগে থেকেই সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। বর্তমানে ৫ লিটারের সয়াবিন তেল (বোতল) বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায়। একমাস আগে যা ৯২০ টাকায় পাওয়া যেত। আর প্রতিকেজি বেতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা কেজি দরে।
বাজারে আমন মৌসুমের চাল আসতে শুরু করলেও পুরোনো বিভিন্ন ধরনের চালের দাম দুই সপ্তাহ ধরে কেজিতে ৪-৫ টাকা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নতুন মাঝারি চালের (বিআর-২৮, ২৯ ও পাইজাম) কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একই মানের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আর মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৬ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়ে ৮৩-৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
একইভাবে বেড়েছে নাজিরশাইল চালের দামও। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে; যা দুই সপ্তাহ আগে ৭০ থেকে ৮২ টাকায় পাওয়া যেত। আর এই সময়ে আমদানি করা নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে শীত মৌসুমের সবজির সরবরাহ কমার অযুহারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া শালগম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ থেকে ২০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। জাত ভেদে শিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৮০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের ব্রকলি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মুগদা বাজারের বিক্রেতা জুয়েল বলেন, এখন শীত চলে যাচ্ছে, সে কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কমতে শুরু করেছে। আগে যে সবজি পাইকারি বাজারে কম দামে কিনেছি, সেই সবজি এখন ৫ থেকে ১০ টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
আমার বার্তা/এল/এমই
