মুরগির বাজার চড়া, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসি
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ঈদ পরবর্তী বাজারে দাম কমে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। তবে সোনালী মুরগির দাম আগের মতোই চড়া ও অপরিবর্তিত রয়েছে। একইসাথে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে লেয়ার, পাকিস্তানি কক এবং দেশি মুরগিও। এসব মুরগি নূন্যতম ৩৬০ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার সমবায় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩৬০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগি ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি মুরগি আকারভেদে ৫৫০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লারের দাম কিছুটা কমলেও অন্য মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। একইসাথে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। তবে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় দামে বড় ধরনের ওঠানামা হয়নি। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস মানভেদে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজি। এসব পণ্যের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে মাছের বাজারে সরবরাহ কম থাকলেও দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর বাজারে মাছ কম আসছে, ফলে সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। তবু ক্রেতা চাহিদা সীমিত থাকায় দাম আগের মতোই রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, আকৃতিভেদে রুই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকায়, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০–২২৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০–২৫০ টাকা এবং শিং–মাগুর ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। চাষ ও দেশি কই ৩০০-৬০০ টাকা আর বোয়াল ও চিতলসহ বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়।
এ ছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০-৩৫০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪৫০-৫০০ টাকা, মলা মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩০০-৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, আটা, পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগিসহ অন্তত ১০টি পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মুরগি ও বেশ কিছু সবজিও।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বাজারে মোটা চালের (স্বর্ণা/চায়না ইরি) দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের পাশাপাশি কমেছে আটার দামও। প্যাকেটজাত আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। তবে সরু চাল (নাজিরশাইল বা মিনিকেট) এবং মাঝারি মানের পাইজাম চালের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
রান্নার অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী। দেশি পেঁয়াজ এখন বাজারে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে, যা সপ্তাহের ব্যবধানে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। এ ছাড়া আমদানিকৃত রসুন ৯ শতাংশ এবং আদার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। তবে সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে কাঁচামরিচের। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পাশাপাশি লেবুর দাম হালিপ্রতি ৫ শতাংশ এবং বেগুনের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।
টিসিবি বলছে, ডালের বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। ছোট দানার মশুর ডালের দাম ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমলেও বড় দানার মশুর ডালের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বড় দানার মশুর ডাল ৯০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের বাজারে লুজ সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম গত এক মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকলেও গত সাত দিনে তা নতুন করে আর বাড়েনি।
আমার বার্তা/জেএইচ
