বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দূত হোমায়েরা বশির ও রাজা বশির পাকিস্তান আইডলে অতিথি বিচারক

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার বশির আহমেদের পরিবার থেকে তার যোগ্য উত্তরসূরি—শিল্পী হোমায়েরা বশির ও শিল্পী রাজা বশির—বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে পাকিস্তান আইডলে অতিথি বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে করাচি সফর করেন।

পাকিস্তান আইডল একটি আন্তর্জাতিক মানের রিয়েলিটি শো। এই শোতে এই প্রথমবারের মতো বিদেশি দেশ থেকে অতিথি বিচারক হিসেবে শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ এই পর্বটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব’। বিচারকের আসনে হোমায়েরা ও রাজা বশিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পপ সম্রাট আলমগীর, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রাহাত ফাতেহ আলী খান, বিলাল মাকসুদ এবং যেব বাঙ্গেশ।

আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে হোমায়েরা বশির ও রাজা বশির একসঙ্গে জানান, “সর্বপ্রথম আমরা তেপান্তর ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনিই আমাদের দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবনাম আন্টির কাছে আমাদের ফোন নম্বরটি পৌঁছে দেন।” তারা আরও বলেন, শাবনাম আন্টির প্রতি তারা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, কারণ তিনিই তাদের পাকিস্তানের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরকার তানভীর আফ্রিদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। উল্লেখ্য, তানভীর আফ্রিদি পাকিস্তান আইডলের পরিচালক। "ওয়েলকাম টু মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি "বলে আমাদেরকে স্বাগত জানান তানভীর আফ্রিদি ভাই।

এ বিষয়ে হোমায়েরা বশির বলেন, “আমরা অকল্পনীয় ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছি। আমাদের বাবা শিল্পী বশির আহমেদের প্রতি এবং তার গানের প্রতি মানুষের যে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখেছি, তা আমাদের আবেগাপ্লুত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সম্মান আমাদের গর্বিত করেছে।”

রাজা বশির বলেন, “সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে। আমাদের বাবার প্রতি এবং আমাদের দেশের প্রতি যে আকাশছোঁয়া সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”

হোমায়েরা ও রাজা বশির জানান, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বাংলা গানের উচ্চ মান অক্ষুণ্ন রাখা এবং বাবা-মায়ের সম্মান বজায় রাখা। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা দু’জনই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।

সংগীত পরিবেশনার শুরুতে তারা গেয়ে শোনান বাংলা জনপ্রিয় গান ‘ওগো প্রিয়তমা’, যা শিল্পী বশির আহমেদ ও শিল্পী মীনা বশিরের গাওয়া একটি বিখ্যাত দ্বৈতকণ্ঠের গান। পরবর্তীতে তারা বশির আহমেদের উর্দু সিনেমায় গাওয়া বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। গানগুলো হলো— ‘হাম চালে ছোড় কার’, ‘ইয়ে মৌসম ইয়ে মাস্ত নজারে’, ‘তুম জো মিলে প্যায়ার মিলা’ এবং ‘ইয়ে সামা প্যায়ারা প্যায়ারা’।

ছয় দিনের সফল ও সম্মানজনক সাংস্কৃতিক সফর শেষে হোমায়েরা বশির ও রাজা বশির দেশে ফিরে আসেন।


আমার বার্তা /জেএইচ