আলভী আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে: ইকরার বাবা

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ছোটপর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ইকরার বাবা আলভী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, আলভী ও তার মায়ের প্ররোচনাতেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষুব্ধ এই বাবা তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘হত্যা’ আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

মেয়ের শোকে পাথর বাবা ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সুষ্ঠু বিচার হোক আলভীর। আলভী একটা অসভ্য ছেলে। সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে। আগে জানতাম না, মনে করতাম সে ভালো। আমার মেয়েও সংসার টেকানোর জন্য আমাদের কাছে কখনো কিছু প্রকাশ করেনি।” মিডিয়ার মানুষদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমি বুঝতে পেরেছিলাম এ খারাপ হবে। মিডিয়ার মানুষ ভালো হয় না। এরা অসভ্য, অসভ্য, অসভ্য। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ইকরার শিক্ষাজীবনের আক্ষেপ করে তার বাবা জানান, ইকরা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, আলভী তখন একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমি তখন বলেছিলাম, আলভীর কাছে মেয়ে বিয়ে দেব না। আমি আলভীর মাকে বলেছিলাম, ‘ভাবি আমি আপনার ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ে বিয়ে দেব না। আমার মেয়েকে আপনারা ভিক্ষা দেন।’ কিন্তু তারা মানেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, আলভী ও তার মা যোগসাজশ করে তার অল্পবয়সী মেয়েটাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করায়। ইকরা তখন মাত্র অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। শুরুতে বিয়ে মেনে না নিলেও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরে মেনে নিয়েছিলেন এই অসহায় বাবা।

মেয়ের এই করুণ পরিণতির জন্য আলভীর মাকে সরাসরি দায়ী করেছেন ইকরার বাবা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সুইসাইডের পেছনে আলভীর মা দায়ী। উনি একজন অ্যাবনরমাল মহিলা। আমার মেয়েটা দারুণ স্টুডেন্ট ছিল। ওদের জন্য তার ক্যারিয়ার, লেখাপড়া সব শেষ হয়ে গেল। আমি ভিক্ষা চেয়েছিলাম ওদের কাছে, কিন্তু ওরা দেয় নাই।”

ইকরার আত্মহত্যার পেছনের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে আলভীর একটি ফেসবুক পোস্টকে সামনে এনেছেন তার বাবা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আলভী কেন আরেকটা মেয়ে নিয়ে আমার মেয়ের সামনে নেপাল থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে? এমনিতেই আমার মেয়ে আমাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে করত। আলভীকে নিয়ে ইকরার অনেক গর্ব ছিল। যখন দেখল আলভী এমন করতেছে, এরপর আলভী ও তার মায়ের প্ররোচনায় আমার মেয়ে হয়তো সুইসাইড করছে।”

সন্তান হারানোর এই আহাজারি এবং আলভীর পরিবারের বিরুদ্ধে আনা ইকরার বাবার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পুরো ঘটনাকে এখন আরও জটিল করে তুলেছে। ১৫ বছরের জমানো কষ্ট আর এক বুক অভিমান নিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া ইকরার জন্য এখন কেবলই বিচারের দাবি স্বজনদের।


আমার বার্তা/এমই