ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মেহজাবীন
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
তকীউদ্দিন মুহাম্মদ আকরামুল্লাহ :

এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ভিউ, লাইক, শেয়ার ও অর্থ উপার্জনের জন্য অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে কনটেন্টের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবেকবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সামনে এনেছেন এই অভিনেত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মেহজাবীন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।’
একই কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না বলে মনে করেন মেহজাবীন। তাঁর ভাষায়, এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজ হিসেবে মানুষের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
কাউকে সম্মান করার ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ককে যুক্তি হিসেবে ব্যবহারের প্রচলিত প্রবণতা নিয়েও ভিন্নভাবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত!’
এরপরই মেহজাবীনের প্রশ্ন, ‘কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে মেহজাবীন বলেন, অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। মানুষের জীবনের সংগ্রাম ও এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করতে চান না। তবে সেই উপার্জনের জন্য অন্য একজন মানুষের সম্মানহানিকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মেহজাবীনের ভাষায়, ‘কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা, হয়তো সেখান থেকে কয়েকটা ডলার আয়। আমি বুঝি, মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করাই এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। সেই বাস্তবতাকে আমি অস্বীকার করতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভিউ, এনগেজমেন্ট ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হতে পারেন যে কেউ, আবার এর শিকারও হতে পারেন যে কেউ।
তবে শুধু যারা এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের নিয়েই উদ্বিগ্ন নন মেহজাবীন। বরং যাঁরা স্বেচ্ছায় এসব কনটেন্ট শেয়ার করেন, আলোচনা করেন এবং আরও অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাঁদের ভূমিকাও তাঁকে ভাবায়।
পোস্টের শেষাংশে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিবেকবোধের প্রশ্নটি সামনে আনেন তিনি। মেহজাবীন লেখেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে মেহজাবীনের এই পোস্টে কনটেন্ট নির্মাতাদের পাশাপাশি তা ছড়িয়ে দেওয়া ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীলতা, মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং অনলাইন আচরণের সামাজিক প্রভাবের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
