পাইলস কেন হয় ও তার চিকিৎসা
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১১:০২ | অনলাইন সংস্করণ
ডা. মোঃ একরামুল হক জোয়াদ্দার

অনেকের কাছেই পরিচিত রোগ পাইলস বা হেমোরয়েড। সচেতনতার অভাব, কুসংস্কার, ভুল ধারণা এবং লজ্বাবশত অনেকেই এই রোগটিকে গুরুত্ব দেন না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ে। ৫০ বছরের পরে প্রায় অর্ধেক মানুষের কখনো না কখনো পাইলসের সমস্যায় ভোগেন। অনেকে ভাবেন , মলদ্বারের যেকোনো রক্তপাত, ব্যথা বা গুটি মানেই পাইলস। বাস্তবে একই উপসর্গ ফিশার, ফিস্টুলা, সংক্রমণ বা এমনকি ক্যান্সারের কারণেও হতে পারে। তাই সঠিক পরীক্ষা ছাড়া রোগ নির্ণয় করা বিপজ্জনক।
কারা ঝুঁকিতে
সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পানি কম পান, ফাস্টফুড গ্রহণ এবং দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে পাইলস বা সম্পর্কিত অন্য মলদ্বার রোগে আক্রান্ত হন। পাইলসের মূল কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যকে চিহ্নিত করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় হরমোনগত পরিবর্তন, রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শিশুর চাপের কারণে পাইলসের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে খাদ্যাভাস এবং জীবনযাপনের কারনে আজকাল তরুনরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
পাইলসের ধরন
মলদ্বার একটি ২৩ ইঞ্চি লম্বা নালি, যার ভেতরে বিশেষ ধরনের রক্তনালি থাকে। যাকে রেকটাল ভেইন বলে। এসব রক্তনালিতে চাপ বাড়লে ফুলে উঠে পাইলস তৈরি হয়। পাইলস সাধারণত দুই ধরনের । এক এক্সটারনাল হেমোরয়েড দুই ইন্টারনাল হেমোরয়েড
এক্সটারনাল হেমোরয়েড : মলদ্বারের বাইরের অংশে ঘটে। এর ফলে তীব্র ব্যথা এবং মলদ্বার ফুলে যায়। কার্ োকারো চুলকানি দেখা দেয়। রক্তপাতও হয় ।অনেক সময় রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোসড পাইলস হয়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
ইন্টারনাল হেমোরয়েড: মলদ্বারের ভেতরের অংশে ঘটে। মলত্যাগের সময় তাজা লাল রক্ত বের হয়। টয়লেটের সময় মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসা। ইন্টারনাল পাইলস আবার চার ভাগে ভাগে ভাগ করা হয়। শুরুতে শুধু রক্তপাত, পরে পাইলস নিচে নেমে আসে, আর শেষ পর্যায়ে স্থায়ীভাবে বাইরে বের হয়ে থাকে।
কারন
পাইলস হওয়ার প্রধান কারন হিসেবে জীবনযাপন পদ্ধতিকে ধরা হয়। এছাড়া দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘনঘন ডায়রিয়া , গর্ভাবস্থা অতিরিক্ত ওজন , দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা , একই জায়গায় অনেকক্ষন বসে থাকা, কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, টয়লেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা।এসব অভ্যাসে মলদ্বারের রক্তনালিতে চাপ পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে পাইলস তৈরি হয়।
চিকিৎসকের কাছে যাবেন কখন
মলত্যাগের সময় তাজা রক্ত বের হলে, তীব্র ব্যথা এবং মলদ্বারে চুলকানি বা জ্বালা হরে। গুটি বা ফোলাভাব অনুভব করলে। মলত্যাগে কষ্ট হলে। মলদ্বার থেকে কিছু বের হয়ে থাকা। এসব উপসর্গ পাইলস ছাড়াও অন্য জটিল রোগের ইঙ্গিত হবেহন করে।
রোগ নির্নয়
ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা , প্রক্টোস্কপি , সিগময়ডোস্কপি , কোলোনোস্কোপি
চিকিৎসা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে, ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। রাবার ব্যান্ড লাইগেশন করা অর্থাৎ পাইলসের গোড়ায় একটি ব্যান্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়, যা পাইলসটিকে ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। স্ক্লেরোথেরাপি মানে পাইলসকে সংকুচিত করার জন্য একটি বিশেষ তরল ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইলেক্ট্রোথেরাপি হলো পাইলসকে সংকুচিত করতে মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর যদি উপরের পদ্ধতিগুলো কাজ না করে, তাহলে লেজার সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিকার
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে পাইলস প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ প্রতিদিন গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়ভ এছাড়া প্রতিদিন ২.৫–৩ লিটার পানি পান করেন, তাঁদের পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক কমে যাবে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটাহাটি করলেও পাইলসের ঝুকি কমে যায়। খাদ্যতালিকায় বেশি শাকসবজি, ফল, ডাল, শস্য খাওয়া । অতিরিক্ত তেলেভাজা, ফাস্টফুড পরিহার করা। দীর্ঘসময় একভাবে বসে না থাকা। চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা। টয়লেটে অযথা সময় বসে না থাকা। মলদ্বারের রোগ পাইলস ছাড়াও ফিশার, ফিস্টুলা, পলিপ, প্রলাপস, এনাল অ্যাবসেস—এসবও হতে পারে। তাই সব ব্যথা বা রক্তপাতকে ‘পাইলস’ ভাবাও ঠিক না।
লেখক : ডা. মোঃ একরামুল হক জোয়াদ্দার
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এমএস (সার্জিক্যাল অনকোলজী)
ক্যান্সার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা ।
লং লাইফ হাসপাতাল লিঃ
লিভ এ লং লাইফ...
১৬১/এ, লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।
হটলাইন : ১৭১৭-৪৬৪-৮৮০
০১৭৫৮ ৫৯৩ ০৯০
আমার বার্তা /জেএইচ
