কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবাকে ট্যাবুমুক্ত করতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক ট্যাবু (সামাজিক নিষেধাজ্ঞা) ভেঙে কিশোর-কিশোরীদের জন্য তথ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, শুধু আলোচনা নয়, নীতি সংস্কার ও পরিকল্পনাকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তব কাজে রূপান্তর করতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত গুরুত্ব দিতে হবে।

কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কৌতূহল স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় বুঝতে পারে না, এসব বিষয়ে তথ্যের জন্য কোথায় যাবে বা কার কাছে জানতে চাইবে। একইভাবে মানসিক ট্রমা ও পারিবারিক সহিংসতা তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এসব বিষয় চেপে রাখলে সমস্যা আরও বাড়ে।

তিনি বলেন, প্রশ্ন করলেই সন্তানদের ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগ ও কর্মসূচি পরিবারকেন্দ্রিক হতে হবে।

কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বড় পরিসরে ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। দেশের সব এলাকার পরিস্থিতি এক রকম নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে যে-সব এলাকা বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হবে, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণও নিশ্চিত করা হবে।

কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যথাযথ কাউন্সেলিং ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস না থাকায় তরুণেরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। তরুণদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও বিশ্বস্ত তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।