ইলন মাস্কসহ ১২ ধনকুবেরের সম্পদ ৪০০ কোটি মানুষের সম্পদের চেয়ে বেশি: অক্সফাম
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরদের (বিলিয়নিয়ার) সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে ধনাঢ্যদের সম্পদের এই পাহাড় রাজনীতিতে ‘চরম বিপজ্জনক’ পরিণতি ডেকে আনবে। সেখানে বলা হয়েছে, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কসহ শীর্ষ ১২ জন ধনকুবেরের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের অতিদরিদ্র অর্ধেক মানুষের (প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ) মোট সম্পদের চেয়ে বেশি।
প্রতিবছরই দাভোস সম্মেলেনের আগে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অক্সফাম। এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কারণে ধনকুবেরদের ভাগ্য নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মধ্যে অতিধনীদের সম্পদ ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। অক্সফাম বলছে, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কসহ শীর্ষ ১২ জন ধনকুবেরের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের অতিদরিদ্র অর্ধেক মানুষের (প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ) মোট সম্পদের চেয়ে বেশি।
অক্সফাম বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করার পক্ষে জোরালো অবস্থান এবং করপোরেট কর বৃদ্ধির চুক্তিগুলো ক্ষুণ্ন করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরদের আরও ধনী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ন্যূনতম করহার থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেন, ‘ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান একটি রাজনৈতিক ঘাটতি তৈরি করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি সতর্ক করে বলেন, অঢেল অর্থ এখন রাজনৈতিক ক্ষমতা কেনার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অক্সফামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা এখন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছেন। উদাহরণ হিসেবে ইলন মাস্কের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) কেনা এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে’ মালিকানার কথা বলা হয়েছে। অক্সফামের মতে, এই ক্ষমতা ধনকুবেরদের হাতে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চাবিকাঠি তুলে দিচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এদিকে ট্রাম্পের আগমনের খবরে দাভোসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল রোববার প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অনেকের মুখে ছিল ইলন মাস্ক ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মুখোশ।
সুইজারল্যান্ডের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির যুব শাখা ইয়াং সোশ্যালিস্টসের নাথালি রুয়াস বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়াই দাভোসে বসে গুটিকয়েক মানুষ পুরো বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
আমার বার্তা জেএইচ
