ইউরোপ গাজার মার্কিন কেন্দ্র পুনর্বিবেচনা করছে
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

গাজার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সহায়তা ও রাজনৈতিক সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন সমন্বয় কেন্দ্র (সিএমসিসি) নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো পুনর্বিবেচনা করছে তাদের অংশগ্রহণ। কূটনীতিকদের বরাতে জানা গেছে, কেন্দ্রটি প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু দেশ এখন কর্মী পাঠানো কমানো বা বন্ধ করার কথা ভাবছে।
সিএমসিসি অক্টোবর মাসে দক্ষিণ ইসরাইলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ। কেন্দ্রটির কাজের মধ্যে ছিল ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, মানবিক সহায়তার প্রবাহ সহজ করা এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জন্য পরবর্তী নীতিমালা তৈরি।
জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েক ডজন দেশ সিএমসিসিতে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিল, যা গাজার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল।
তবে কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ক্রিসমাস এবং নববর্ষের ছুটির পর থেকে অনেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা সিএমসিসিতে ফিরে যাননি। অনেকেই কেন্দ্রটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক পশ্চিমা কূটনীতিক এটিকে ‘নির্দেশহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, আরেকজন বলেন, “সবাই মনে করছে এটি একটি বিপর্যয়, তবে বিকল্প নেই।”
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা, গ্রিনল্যান্ড এবং ভেনেজুয়েলার নীতি ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে তারা গাজার জন্য সেনা ও কূটনৈতিক কর্মী পাঠানো পুনর্বিবেচনা করছে।
কূটনীতিকরা বলছেন, কিছু সরকার ইতিমধ্যেই তাদের উপস্থিতি কমানোর কথা ভাবছে, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে কর্মী পাঠানো বন্ধ করতে চাইছে। তবে তারা কোন দেশগুলো তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন।
সিএমসিসি পরিচালনা করছেন একজন মার্কিন জেনারেল এবং এখানে মার্কিন ও ইসরাইলি উভয় পক্ষের সামরিক কর্মী কাজ করেন। কেন্দ্রের কার্যকারিতা ইসরাইলি বিমান হামলার কারণে সীমিত হয়েছে, যদিও ইসরাইল দাবি করেছে হামাস হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
