স্ত্রীর প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ কারাবন্দী ইমরান খানের

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

কারাবন্দী আছেন ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান দেশের বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। কারাবন্দী কিংবদন্তি ক্রিকেটারের দাবি, মানসিকভাবে চাপে ফেলতে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

ইমরান খানের মতো তাঁর স্ত্রী বুশরার শারীরিক অবস্থাও ভালো না। হাসপাতালে আছেন তিনি। বুশরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে দাবি পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের। কারাগারে বন্দী থাকা ইমরান সম্প্রতি তাঁর ছেলে কাসিমের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন। ঈদের সময় পারিবারিক আলাপচারিতার পর ইমরানের এসব বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইমরান খান বলেন, ‘এই দেশের (পাকিস্তানের) বিচারকদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা বারবার বিচার বিভাগের কাছে গেছি, কিন্তু তারা নিজেদের স্বার্থে বিক্রি হয়ে গেছে। তারা জানে আমাকে ভাঙতে পারবে না, তাই আমার স্ত্রীকে লক্ষ্য করছে। শুধু আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য বুশরা বিবির সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ কীভাবে সম্ভব?’

ইমরান আরও বলেন, ‘তাকে (বুশরা বিবি) সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেটাও আবার অনেক সময় দেওয়া হয় না।’

ইমরার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর আইনজীবীদের মতে, ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ইমরান। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কিছু দিন আগে তাঁর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ১৪ জন সাবেক ক্রিকেটার। এই তালিকায় আছেন গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডাররা।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী আছেন ইমরান। ২০২৬ সালের মার্চে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত একটি পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড আদিয়ালা জেলে তাঁর চোখ পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় তাঁর ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও)’ ধরা পড়ে, যা গুরুতর চোখের রোগ এবং স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


আমার বার্তা/এমই