৫৪ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষের ঐতিহাসিক যাত্রা

আর্টেমিস–২

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে আর্মেটিস-২ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই মিশনে চারজন মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের চারদিকে একটি ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে, যা ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের পৃথিবীর নিন্ম কক্ষপথের বাইরে যাত্রা।

এই মিশনটি নাসার চাঁদে মানুষকে আবার পাঠানো এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ৩২ তলা সমান উচ্চতার রকেটটি কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে জড়ো হয়েছিল।

এই অভিযানের সদস্যরা হলেন নাসার মহাকাশচারী রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা প্রায় ১০ দিনের একটি যাত্রায় চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, যা মানুষকে বহু দশকের মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণে নিয়ে যাবে।

লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন বলেন, “এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন পুরো আর্টেমিস দলের হৃদয়, আমেরিকান জনগণের সাহসী চেতনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অংশীদারের আশা-স্বপ্ন।” উৎক্ষেপণের পাঁচ মিনিট পর কমান্ডার উইজম্যান বলেন, “আমরা একটি সুন্দর চাঁদের উদয় দেখতে পাচ্ছি, আমরা সরাসরি তার দিকেই এগোচ্ছি।”

উৎক্ষেপণের আগে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত

উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যখন রকেটে হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরার কাজ শুরু হয়। এর আগে পরীক্ষার সময় বিপজ্জনক লিক হওয়ায় উৎক্ষেপণ বিলম্বিত হয়েছিল। তবে এবার বড় কোনো লিক ধরা পড়েনি। প্রায় ৭ লাখ গ্যালন (২.৬ মিলিয়ন লিটার) জ্বালানি সফলভাবে রকেটে ভরা হয়।

উৎক্ষেপণের আগে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল, যেমন রকেটের ফ্লাইট-টার্মিনেশন সিস্টেমে কমান্ড না পৌঁছানো। এই সিস্টেমটি প্রয়োজনে রকেটকে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। তবে দ্রুতই সমস্যার সমাধান করা হয়। এছাড়াও, ওরিয়ন ক্যাপসুলের লঞ্চ-অ্যাবর্ট সিস্টেমের একটি ব্যাটারির তাপমাত্রা সমস্যা দেখা দিলেও তা ঠিক করা হয় এবং উৎক্ষেপণে বাধা সৃষ্টি করেনি।

এরপর কী হবে?

প্রথম ১-২ দিন মহাকাশচারীরা পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে থেকে বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করবেন, যেমন জীবনধারণ ব্যবস্থা, প্রপালশন, ন্যাভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরপর “ট্রান্সলুনার ইনজেকশন” নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে মহাকাশযানটি চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করবে।

চাঁদের কাছে পৌঁছে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি একটি “ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি” অনুসরণ করবে, যা চাঁদ ও পৃথিবীর মহাকর্ষ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসার পথ তৈরি করে।

পৃথিবীতে ফেরার সময় ক্যাপসুলটি প্রায় ৪০,২৩৩ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, যেখানে উদ্ধারকারী দল মহাকাশচারীদের উদ্ধার করবে।

অর্ধেক বিশ্বের মানুষ তখনো জন্মায়নি যখন অ্যাপোলোর মহাকাশচারীরা শেষবার চাঁদে হেঁটেছিলেন। তাই এই আর্টেমিস মিশনকে নতুন প্রজন্মের জন্য চাঁদে ফেরার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্স বলেন, “অনেকেই অ্যাপোলো যুগ দেখেননি। অনেক প্রজন্ম তখন জন্মায়নি। এটি তাদের জন্য নতুন অ্যাপোলো।” - সূত্র: আল জাজিরা।