ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: নিখোঁজ পাইলট খুঁজে পেতে মরিয়া দুই দেশ

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের অভ্যন্তরে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। বিধ্বস্ত ওই বিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বর্তমানে ইরানি এবং মার্কিন বিশেষ বাহিনীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। 

তেহরান জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানটিকে সফলভাবে ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানের দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে তাদের বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপরজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি শত্রুপক্ষীয় যুদ্ধবিমানকে আইআরজিসি এর উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে। 

বিমানটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এমনকি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ঘোষণা করা হয়েছে, কোনো পাইলটকে জীবিত অবস্থায় আটক করতে পারলে তাকে ‘বিশেষ পুরস্কার’ দেওয়া হবে।

এই উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরে আরও একটি মার্কিন এ-১০ গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান ভূপাতিত করেছে। 

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই বিমানের পাইলটকে নিরাপদেই উদ্ধার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এই ঘটনাকে যুদ্ধের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এতে কোনো আলোচনায় প্রভাব পড়বে না।

এদিকে, শুক্রবার রাতভর ইসরায়েল, ইরান, লেবানন ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। উত্তর তেহরান এবং বৈরুতে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। 

তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা । 

যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ শান্তি চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ 'হরমুজ প্রণালী' পুনরায় খুলে দিতে পারে। 

বর্তমানে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা যুদ্ধের কারণে প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। সূত্র : এএফপি