যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠক তেহরান-ওয়াশিংটনের
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

পারস্পরিক যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহব্যাপী আলোচনায় বসবে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুধু নির্ধারিত নীতিগুলোর প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রেখে ইসলামাবাদে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই পদক্ষেপ যুদ্ধের সমাপ্তি নির্দেশ করে না। ১০ দফা পরিকল্পনায় বর্ণিত ইরানি নীতিগুলোর স্বীকৃতির ভিত্তিতে আলোচনার চূড়ান্ত বিষয়ে একমত না হওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ শেষ করতে রাজি নয়।
আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা ‘মার্কিন পক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস নিয়েই’ আলোচনায় অংশ নেবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে পারস্পরিক সম্মতিতে দুই সপ্তাহের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকার ওপর।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চূড়ান্ত দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ওমানে। বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলকে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসলামাবাদের এই বৈঠক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিগগিরই আরও ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে।
