‘তুসকা’ জব্দের জেরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ইরানের পতাকাবাহী ‘তুসকা’ কার্গো জাহাজ জব্দের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। দেশটির আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী একটি ইরানি জাহাজ আটক করে, যা চীন থেকে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে গুলি চালায় এবং এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয়।

এদিকে ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামের ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে হামলা চালানো এবং সেটি জব্দ করার কথা নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্টকম। মার্কিন বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডের জবাবে মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘দস্যুতা’ নীতি ও হামলার বিরুদ্ধে ইরান তাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

এ ঘটনার সূত্রপাত হয় যেভাবে তা হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিষয়ে জেনেভাতে আলোচনা চলা অবস্থায় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।

এর প্রতিবাদে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দীর্ঘ ৩৯ দিন যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরদিন ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।