মুসলমানদের আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
সাহারানপুরে মসজিদ ধ্বংস
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলা কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের (এআইএমপিএলবি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলটি মসজিদটি ভেঙে ফেলার পেছনে আইনগত ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি, জমির মালিকানা, ওয়াক্ফের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আইনজীবীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন বোর্ডের সম্পাদক মাওলানা ড. ইয়াসিন আলী উসমানি বদায়ুনি, মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রাসুল ইলিয়াস, ড. আবদুল মালিক মুঘিসি, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ জাহিদ ফালাহি এবং মুহাম্মদ আরিফ আখলাক।
সফরকালে প্রতিনিধি দলটি জেলা পর্যায়ে মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী, হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, মসজিদের মোতাওয়াল্লি অ্যাডভোকেট তানভীর আহমদ এবং শহর কাজি নাদিম আখতারের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনা, জমির মালিকানা, ওয়াক্ফ হিসেবে নিবন্ধনের বিষয়, প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ আইনি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় মসজিদ নির্মিত জমির মালিকানা ও আইনগত অবস্থান যথাযথভাবে নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি ওয়াক্ফ বোর্ডে নিবন্ধিত বলে জানা গেলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও দলিলের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট সব দলিল, জমির মালিকানার কাগজপত্র এবং ওয়াক্ফের নথি সংগ্রহ করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমে আদালতের সামনে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই মসজিদ-সংক্রান্ত বিষয়ে স্থগিতাদেশ পাওয়ার কথা জানানো হয়, যা ২৪ জুলাই জারি করা হয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বা বাতিল হওয়ার পর মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এআইএমপিএলবি প্রতিনিধি দল এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী কোনো সক্ষম আদালত সরাসরি মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান নির্ধারণের জন্য আদালতের নথি, সরকারি কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
প্রতিনিধি দলের মতে, প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনগত প্রক্রিয়া, সম্পত্তির অধিকার, ওয়াক্ফ আইন এবং সাংবিধানিক অধিকারের আলোকে পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের আইনগত এখতিয়ার অতিক্রম করেছেন কি না বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রশাসনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে।
আইনি দল মসজিদের অবস্থান, জমির মালিকানা, ওয়াক্ফের নথি, সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ এবং প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত সব নথি আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইন ও ঘটনার প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য দাবিগুলোর মধ্যে একই স্থানে মসজিদ পুনর্র্নিমাণ, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, প্রমাণের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের আবেদন, জমির মালিকানা নির্ধারণ এবং ওয়াক্ফসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার বিষয় থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত বা সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষই নেবে।
শহর কাজি নাদিম আখতার প্রতিনিধি দলকে জানান, মসজিদটি ভেঙে ফেলার রাতে ভারতের প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল।
ওই বার্তাগুলোতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, আদালতে বিষয়টির কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় প্রশাসন মসজিদটি ভেঙে ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতে মসজিদ, ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বোর্ডের অধীনে একটি স্থায়ী সেল, প্ল্যাটফর্ম ও হেল্পলাইন চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রাসুল ইলিয়াস ও সম্পাদক মাওলানা ড. ইয়াসিন আলী উসমানি।
প্রতিনিধি দলটি শহর কাজি, মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও ক্ষতিগ্রস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব ধরনের আইনগত, নৈতিক ও সাংগঠনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুরো বিষয়টি শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক ও আইনগত পদ্ধতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে। মসজিদ ও ওয়াক্ফ সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান সব ধরনের আইনগত পথ ব্যবহার করা হবে।
এদিকে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ইউএনএ
