ভারতজুড়ে ছড়াচ্ছে দিল্লির আন্দোলন, যেখানে বাধা সেখানেই বিক্ষোভের ডাক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। শনিবার (১১ অক্টোবর) দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি তারা। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জন্তর মন্তরে আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোট চুরি এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
সিজেপির জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, সরকার হয়তো ভেবেছিল, শনিবার আটকের পর আন্দোলনকারীরা বাড়ি ফিরে যাবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই ভয়ই তাদের আন্দোলনের অর্ধেক সাফল্য। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক হওয়ার পর অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অজিঙ্কা শিন্ডে।
দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়
শনিবার জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশ অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে কর্মসূচি ঠেকাতে অভিযান চালায়।
এ সময় দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয়। পরে তাদের বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগেুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তারা হলেন আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা ব্যানার্জী এবং বামপন্থি নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলটির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাশকেও আটক করা হয়। দলটির নেতাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের দাবি, দীপকেকে আটকের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা তারা জানতে পারেননি।
এদিকে মহারাষ্ট্রে দীপকের দাদি মারা গেছেন। তার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে দলটি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাকে শেষকৃত্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
ভারতজুড়ে আন্দোলনের ডাক
স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য আন্দোলনের পক্ষে ব্যাপক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। কোথাও পুলিশ বাধা দিলে, সেই স্থানকেই জন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সোমবার জোটের নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, নেতাদের ও তরুণদের গ্রেফতার করা হলেও আন্দোলন থামবে না। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের তরুণদের নিয়ে তিনি গর্বিত।
বিরোধীদের চার দফা দাবি
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় ইন্ডিয়া জোট। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের দাবি।
এ ছাড়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে জোটটি।
সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেসব নির্বাচন বাতিলের দাবিও রয়েছে তাদের স্মারকলিপিতে।
দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, বাতিল বহু ট্রেন
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। জন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়।
দিল্লির বাইরে মুম্বাই, আহমেদাবাদ ও চেন্নাইয়েও বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করায় প্রায় ২০০ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও অভিনেতা ইমরান খান। - সূত্র: এনডিটিভি
