স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য যে পুষ্টি উপাদানগুলো জরুরি

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বয়স হলো শারীরিক, মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় সঠিক পুষ্টি না পেলে তাদের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান থাকা একান্ত প্রয়োজন।

প্রোটিন: শরীর গঠনের মূল উপাদান

শিশুর পেশি গঠন, শরীরের বৃদ্ধি এবং কোষ মেরামতের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রোগ থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, ছোলা, বাদাম ও ডালে প্রচুর প্রোটিন পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ উভয় উৎস থেকেই প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেন।

আয়রন: রক্ত ও মস্তিষ্কের শক্তি

আয়রন শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হলে রক্তাল্পতা, ক্লান্তি ও মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। পালং শাক, মেথি, কাঁচকলা, কুমড়ো বীজ, মাংসের মেটে এবং বিভিন্ন ফলে আয়রন পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি: হাড় ও দাঁতের ভিত্তি

এই বয়সে হাড় ও দাঁতের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অত্যন্ত জরুরি। দুধ, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও ফল ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। সূর্যালোকে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, তাই নিয়মিত বাইরে খেলা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বোহাইড্রেট: শক্তির প্রধান উৎস

শিশুদের বাড়তি শক্তি ও ক্যালরি প্রয়োজন হয়, যা কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে। তবে পরিশোধিত খাবারের পরিবর্তে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা ভালো। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি ও গমের আটা বা রাগির মতো স্বাস্থ্যকর শস্য থেকে এই উপাদান পাওয়া যায়।

জিঙ্ক ও ভিটামিন সি: মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক

জিঙ্ক স্নায়বিক বিকাশে সাহায্য করে এবং ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লেবু, ক্যাপসিকাম, বাদাম, বীজ, দই ও ডাল এসব উপাদানের ভালো উৎস। সঠিক পুষ্টি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিনের খাবারে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য নিশ্চিত করাই সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ার প্রথম ধাপ।