তাড়াহুড়া করে জ্বালানি মহাপরিকল্পনা কার স্বার্থে, প্রশ্ন সিপিডির
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

অন্তর্বর্তী সরকারের করা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা কার স্বার্থে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালাগ (সিপিডি)।
এমনকি এটি কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত পূরণে করা হয়েছে কি না সেই প্রশ্নও সংস্থাটির। এছাড়া এ মুহূর্তে এলএনজিসহ জ্বালানি খাতে যে সংকট রয়েছে, খসড়ায় তা অনুপস্থিত রয়েছে বলেও দাবি সিপিডির।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০): সিপিডি’র তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়’ সংস্থাটির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিওতি।
এই মহাপরিকল্পনা কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত পূরণ কিংবা কার স্বার্থে করা হয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একটি উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশে যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া গবেষণামূলক হওয়ার কথা, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি দেশের লক্ষ্যের সঙ্গে তা সাযোজ্যপূর্ণ হওয়ার কথা, যেখানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সম্পৃক্ত হওয়ার কথা, যেখানে এ ধরনের প্রক্রিয়া অংশগ্রহণমূলক হওয়ার কথা, তার কোনোটিই আমরা এখানে দেখলাম না।
তিনি বলেন, এমনকি এই মুহূর্তে বিভিন্ন রকমের যে সংকট চলছে সেই সংকট সমাধানের বিষয়গুলোকেও যে বিবেচনায় নেওয়ার কথা- এই খসড়া প্রণয়নে তার খুবই মৃয়মান উপস্থিতি বা বলতে গেলে সেগুলো আসলে এক অর্থে অনুপস্থিত। তাহলে প্রশ্ন হলো অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র এক মাস সময়কালের আগে যখন তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, কেন তাড়াহুড়া করে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ, কেন এই তোড়জোর? এটা কি কাউকে তুষ্ট করার জন্য? কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্তের অংশ হিসেবে কি এরকম কিছু করা হচ্ছে?
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দশককাল ধরে সিপিডি পাওয়ার এনার্জি সেক্টর নিয়ে কাজ করছে। বিগত সরকারের সময় কী ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির ভেতরে সিপিডিকে কাজ করতে হয়েছে। এই সরকারের সময় কিছুটা সহযোগিতা নিয়েও আমরা কাজ করছিলাম। সেরকম একটা প্রেক্ষাপটে এরকম জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনার খসড়া দাঁড়িয়ে গেছে- সিপিডি জানে না। এটা সিপিডির জন্য এক ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি। কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়া, কোনো বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ধরনের একটা কাজ গোপনে শেষ করা আগের সরকারের আচরণের মতোই।
তিনি বলেন, আমরা মনে করলাম যে সিপিডি হয়তো বাদ পড়েছে, অন্যরা হয়তো এই প্রক্রিয়ার মধ্যে জড়িত। জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। সেখানে দেখতে পেলাম কেউই এ বিষয়ে জানেন না। কোথাও থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত বা রিপোর্ট নেওয়া হয়নি।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, আগামীতে যারা নির্বাচিত হবে, সেই সরকারে জ্বালানি খাতে যেন সাউন্ড মন্ত্রী আসেন।
আমার বার্তা/জেএইচ
