পলাতক যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণ
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পলাতক থাকার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচার শেষে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এসব অপরাধের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটিতে কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান থাকলেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় অন্যান্য অভিযোগে পৃথক দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেনি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খারিজ করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে অবৈধভাবে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এটি ছিল বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে প্রথম ঘোষিত রায়। তবে আসামি পলাতক থাকায় সে সময় তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই আবুল কালাম আজাদ দেশত্যাগ করেন। তিনি প্রথমে ভারত হয়ে পরে পাকিস্তানে অবস্থান নেন বলে জানা যায়।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।
উল্লেখ্য, গত বছর আবুল কালাম আজাদ তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় করা ওই আবেদনের পরই তার আত্মসমর্পণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
দীর্ঘদিন পর এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
