আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব: সাখাওয়াত হোসেন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রেক্ষাপটে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বন্দর বন্ধ রেখে আন্দোলন করলে শুধু সরকারের নয়, রাষ্ট্রেরই বড় ক্ষতি হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নৌ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আন্দোলনরত কর্মচারীদের প্রতি আমাদের রিকুয়েস্ট, এভাবে যদি করেন, শুধু সরকারের না—রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে। এটা এমন একটা কোনো বিষয় না, যেটার জন্য বন্দরকে বন্ধ রাখবে। পোর্ট বন্ধ না রেখেও তো অনেক দাবি দেওয়া যায়। সামনে রমজান—এ বিষয়টাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।”
নৌ উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে কথা না বলে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। “উনাদের সঙ্গে বসে কথা হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কমিউনিটিকেও ডাকব, তাদের সঙ্গেও আলোচনা করব। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব,” বলেন তিনি।
তিনি আন্দোলনরতদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এর মধ্যে কোনোভাবে যেন বন্দর বন্ধ না করা হয়। এটি কোনো সরকারের সম্পদ নয়, রাষ্ট্রের সম্পদ।
এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।
এই কর্মসূচির ফলে এনসিটি, জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)সহ বন্দরের সব টার্মিনালে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙ্গর থেকে জেটিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জাহাজগুলো নোঙরে আটকে আছে। বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতির প্রেক্ষাপটে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ১৫ জন কর্মকর্তাকে বদলির সুপারিশ করা হয়, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা দুই বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতাও রয়েছেন। আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
বদলির প্রতিবাদ ও এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের পর ওইদিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
আমার বার্তা/এমই
