মাতৃভাষা উপলক্ষে রং-তুলির ছোঁয়ায় প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আবারও ফিরে আসছে রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এখন সাজ-সাজ রব। ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কর্মীরা। মূল বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আলপনা আঁকা– সব মিলিয়ে এক কর্মমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ফুল হাতে জনতার ঢল নামবে শহীদ মিনারে। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেদীর আলপনার কাজ চলছে পুরোদমে। মূল চত্বরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও রাস্তার আলপনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে।

প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা ইতি বলেন, ‘আমরা চারুকলা অনুষদের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে লাইন টানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আজ এবং আগামীকাল রং করার কাজ চলবে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো আয়োজনটি সুন্দরভাবে শেষ করা যায়।’

একই অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিবেক কুমার বলেন, ‘আমরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষকরা এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি আগামীকালের মধ্যেই আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হবে এবং সবকিছু যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংবলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।


আমার বার্তা/এমই