জানুয়ারিতে ৫৯৭ দুর্ঘটনায় নিহত ৫৮৬ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে সংগঠনের দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
সড়কেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত ও ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২০৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৬ শতাংশ, নিহতের ৪০.৮৪ শতাংশ এবং আহতের ১০.৯৬ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে—২৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়
সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩১ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭৯ জন শিক্ষার্থী, ৯ জন শিক্ষক, ৬২ জন নারী, ৬৭ জন শিশু, ৪ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন সেনা সদস্য, ১ জন নৌবাহিনী সদস্য, ৪ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১২৭ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক এবং ১১ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
যানবাহন ও দুর্ঘটনার ধরন
এ সময় দুর্ঘটনায় জড়িত ৮২৯টি যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৮.৪৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.০৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৫.৩০ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৮.৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৮.৬২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬.৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.৬১ শতাংশ অন্যান্য কারণে, ০.১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ০.৩৬ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সড়কের ধরন অনুযায়ী চিত্র
মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ৪.৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা মহানগরীতে, ০.৫৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৩৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে।
সংগঠনটি সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর তদারকি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
