আগামী নির্বাচনে আরও অধিক নারী প্রার্থী দেখতে পারব: মতিউর রহমান
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আগামী নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও সরব উপস্থিতি আরও ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিগত কয়েক দশক ধরে দেশব্যাপী নানা কাজ চলছে। এর মধ্যে একশনএইড অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এবারও নারী প্রার্থীদের কিছুটা সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনে নারী প্রার্থিতার সংখ্যা অনেক বাড়বে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ‘নারী নেতৃত্ব ও সুরক্ষা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ ও দৈনিক প্রথম আলো। এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘গিভ টু গেইন’-এর আলোকে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে এই আলোচনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মতিউর রহমান বলেন, ‘নারী, পুরুষ, গণমাধ্যমসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ যদি কোনো একটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারে এবং চাপ তৈরি করতে পারে, তবে অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।’
এ প্রসঙ্গে তিনি এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এই শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশে এসিড দগ্ধ হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছিল। বছরে এ সংখ্যা ৪০০-৫০০ ছাড়িয়ে যেত। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আমরা এর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করি। পরবর্তী সময়ে ব্র্যাক ও প্রথম আলো যৌথভাবে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে আইন কঠোর করা হয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। ফলে এখন এসিড দগ্ধের সংখ্যা বছরে ১০-১৫ জনে নেমে এসেছে। একইভাবে আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, তবে নির্বাচনে নারী প্রার্থিতার সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘মানবিক মর্যাদার জায়গা থেকে নারী তো মানুষ। কিন্তু সমাজ যেন আজ কলুষিত। আমরা নতুন প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আছি। নবনির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা শুধু দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং পুরো সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নারীর অধিকারের কথা বলবেন।’
বিশেষ এই সংলাপে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নারীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তথাকথিত ‘ভদ্র মেয়ে’র ইমেজ নিয়ে থাকা পরাজয়ের সমান। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নারীবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও আমরা দেখেছি একটি দল ০ শতাংশ এবং আরেকটি দল মাত্র ৩ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এমনকি দলের প্রভাবশালী নেত্রীরাও একে ‘পুরুষ কোটার মনোনয়ন’ বলে অভিহিত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার থেকেই বৈষম্যহীন সচেতনতা শুরু করতে হবে। কন্যা শিশুকে যদি তার প্রাথমিক পরিবার পূর্ণ সমর্থন দেয়, তবে সে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে। ৫২ শতাংশ নারী ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান, যারা নারীদের মনোনয়ন দেয় না বা অর্গানিক নারী রাজনীতিকদের জায়গা দেয় না, তাদের প্রত্যাখ্যান করুন।’ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, তবেই বাস্তবতা পরিবর্তন করা যাবে।’
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নায়েব ইউসুফ আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ বিভিন্ন দলের নারী প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, বিভিন্ন দেশের হাই কমিশনের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং নারী অধিকারকর্মীরা সংলাপে অংশ নেন।
আমার বার্তা/এমই
