মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সময় কঠিন সময়, সেটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হলো। এতে অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরও বাড়তে থাকবে।’
রোববার (২২ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঈদ–পরবর্তী মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য।
বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই সজাগ এবং জ্বালানি কেনা অব্যাহত আছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্বালানির অভাবে যাতে মিল-কারখানা, বিদ্যুৎ খাত বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য ভালো ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ যদি বেশি দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে চাপ বাড়তে থাকবে।
এই চাপ বাড়তে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যেভাবে বিশ্বব্যাপী আসছে, সেটা বাংলাদেশেও আসবে। আমরা এখনো যেমন তেলের মূল্যবৃদ্ধি করিনি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করিনি, বাসভাড়া বৃদ্ধি করিনি। মোটামুটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করছি। এখন জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন লাগবে। সংযমের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এই দেশে চাপ অনেক বেশি মন্তব্য করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধ তো আমাদের হাতে নেই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। তবে বাংলাদেশসহ সব দেশে কম বেশি এর প্রভাব পড়ছে। তবে বাংলাদেশে বেশি। কারণ, আমাদের জ্বালানির মূল সোর্সটা (উৎস) হচ্ছে ওখানে (মধ্যপ্রাচ্য)।’
তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। বিশ্বের অনেক দেশ তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এই ঈদের সময় তেলের কারণে কেউ আটকে ছিল না। সবাই যার যার গন্তব্যস্থলে সঠিক সময়ে গেছেন। ভাড়াও বৃদ্ধি করতে পারেনি।
নতুন সরকার যে অর্থনীতি পেয়েছে তাতে সবকিছুর মানদণ্ড নিম্নগতির দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য বাড়ছে, চাকরি কমছে, বিনিয়োগ কমছে। সার্বিকভাবে যে অর্থনীতি আমরা হাতে পেয়েছি, এটা নিম্নগতির অর্থনীতি। খুবই নিম্নপর্যায়ে এটা স্যাটেল করেছে।’
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের মধ্যেও আমাদের অনেকটা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা করছি পুরো বিষয়টাকে একটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় কি না। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা সবাই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এখানে হলিডে বলে কিছু নেই। কিছু উদাহরণ সেট করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাফেরায় যে সিম্পলিসিটি। সাধারণ মানুষের কাছে কিছু বার্তা দেওয়া হচ্ছে, অপচয়-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে চলমান রাখতে হলে বিগত দিনে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটা করতে দেওয়া যাবে না। অপচয় করতে দেওয়া যাবে না।’
এবার ঈদের আগে পোশাক কারখানার কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্যান্যবার পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতার জন্য সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবার আগেই বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সময় চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালও। এ সময় তিনি বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, ৬ মাসের মধ্যে দুর্নীতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসবে সরকার। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমি অফিসের সেবা বিস্তৃত হবে। যাতে এ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যায়।
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চট্টেশ্বরী সড়কের নিজ বাসভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ মন্ত্রণালয় নিয়ে ৬ মাসের একটি পরিকল্পনা নেবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী কাজ করা যায়। ভূমি অফিসকে আধুনিকায়ন করা হবে, সব ধরনের লেনদেন অনলাইনে আনা হবে। এতে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতিও কমবে।
আমার বার্তা/এমই
