আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৯টি অধ্যাদেশ সংসদে পাস
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আরও নয়টিকে আইনে রূপ দিতে বিল আকারে পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। বিলগুলোতে দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া ৯টি বিলের বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, যেন এগুলো হুবহু পাস করা হয়।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ যারা বলছে, সরকার গুমের আইন করতে চাচ্ছে তাদের তিনি এ আইনটি ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।’
বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।’
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে অনেকে গুমের বিচার নিয়ে, সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে ক্লিয়ার করেছেন যে গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাইরে কতজন কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী যেটা গৃহীত হবে সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’ পরে অন্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এরপর পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। মূলত নাম পরিবর্তনে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো হলো—ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদ মজা করে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!’
পরে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করা হয়। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
আমার বার্তা/এমই
