মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন, যেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এবং কঠোর নীতিমালা।

২০২৪ সালের জুনে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুত্রজায়াতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এ আর রামানান, বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অংশ নেন। বৈঠকে দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।

নতুন ব্যবস্থায় অভিবাসন ও নিয়োগ সংক্রান্ত সব ব্যয় কর্মীর পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে একটি আধুনিক এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, যা মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনবে। কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ এজেন্সিগুলোই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।

এবার একসঙ্গে পুরো বাজার না খুলে ধাপে ধাপে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নির্মাণ খাতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৮০০ কর্মী ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মরত আছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। কলকারখানা, নির্মাণ ও কৃষিখাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বেশি থাকায় আগামী এক বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়ালালামপুর-এ বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের সব দাবি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা থেকে তৈরি সংকট দ্রুত সমাধান সম্ভব না হলেও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা, উন্নত কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নতুন এই স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া চালু হলে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ায় নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।