প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু ডিসি সম্মেলন, আলোচনায় ৪৯৮ প্রস্তাব
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে আসা এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।
এ বছর সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে।গতকাল শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির জানান, চার দিনের এই সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদপডকাস্ট
মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন। সম্মেলনটি আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে।উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে শিল্পকারখানাগুলোকে নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তর, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো মেরামত ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং রংপুর বিভাগে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল চালু করা। এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন, সব দরিদ্র-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা অবৈতনিক করা এবং জেলা পর্যায়ে ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সংশোধন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ধাপের মূল্য তালিকা কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশের প্রস্তাবও সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মৃতি রক্ষার্থে সব জেলায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা। সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আজ দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
আগামীকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে এবং ডিসিরা জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তৃতীয় দিন মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত আলোচনা শেষে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা শেষে রাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভা ও ডিনার অনুষ্ঠিত হবে।
