এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ পরিদর্শন করে জাইমার আবেগঘন অনুভূতি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ১৯:০২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ পরিদর্শন করে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি শিশুদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও মানবিক পরিবেশে মুগ্ধতার কথা তুলে ধরেন। সোমবার (১৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে তিনি এই অনুভূতির কথা জানান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “পড়ন্ত বিকালে ঢাকার ‘এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজে’ পৌঁছাতেই ছোট ছোট একঝাঁক নিস্পাপ শিশু হাসিমাখা মুখে আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানালো। ওদের কারও মুখে লাজুক হাসি, কারও চোখে কৌতূহল কিংবা দুষ্টুমির আভাস। ওদের প্রতিটি কথায়-গানে, আবৃত্তিতে, নৃত্যে-নিষ্পাপ কোমল প্রাণ-চাঞ্চল্য, স্বতঃস্ফূর্ততা ও উচ্ছ্বাস প্রতিটি মুহূর্তে যেন হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছিলো।”
জাইমা লেখন, “বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে ‘এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ’ এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য পারিবারিক আদরের ছায়া রচনা করে চলেছে। শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও নানামুখী সহায়তা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে। ৬টি গ্রামকে ঘিরে বাংলাদেশে ৫৫ বছরের এই নিরন্তর যাত্রায় সংগঠনটি ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি জীবনে জ্বালিয়েছে আলোর প্রদীপ।”
তিনি উল্লেখ করেন, “সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎ মিললো অসাধারণ সব শিশুর সাথে, পরিচয় হলো তাদের পালক মায়েদের সাথে এবং জানা হলো এসওএসের সাফল্যের জীবন্ত কিছু গল্পের। ঢাকার কোলাহলের বুকে শিশুদের জন্য এমন একটি শান্ত, নিরাপদ আশ্রয়ের দেখা পেয়ে মন অজান্তেই আবেগে ভরে উঠলো। যে শিশুরা একদিন নিজের পরিবার হারিয়ে পথে দাঁড়িয়েছিল, তারা এখানে পেয়েছে একটি পূর্ণ পৃথিবী। যে পৃথিবী তাদের ভালোবাসে, আগলে রাখে, পথ দেখায় এবং ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করে।
“মানুষের সঙ্গে মানুষের আসল বন্ধন শুধুমাত্র রক্তের বন্ধনেই সীমাবদ্ধ থাকে না— বরং ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতায়ও জন্ম নেয় গভীর আত্মীয়তা। এই বন্ধনের কোনও বিনিময় হয় না, তবুও সৃষ্টি হয় মানবিক স্বার্থকতা ও ঐশ্বরিক তৃপ্তি।
“আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই— এই সুন্দর অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজের এই ৫৫ বছরের পথচলা সত্যিই অসাধারণ এবং অনুকরণীয়। তাই আজকের বিকালটা নিয়ে গেলাম মনের ভেতরে, অনেকটা সেই ছোট্ট হাতের ফুলগুলোর মতোই।”
আমার বার্তা/এমই
