ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক: টিআইবি

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৩:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনে ক্রমবর্ধমান ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক সংগঠন টিআইবি। রোববার (৭ জুন) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি’র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র প্রতিবেদন ও পর্যবেক্ষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ গবেষক জুলকারনাইন। প্রতিবেদনের আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের অংশে বলা হয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে করতে না পারায় ক্রমবর্ধমান ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক। 

এ ছাড়াও কিশোর গ্যাংয়ের অব্যাহত তৎপরতার ক্ষেত্রে ঢাকায় সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই কিশোর। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা লক্ষণীয়। গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কার্যকরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে; ঢাকা, কুষ্টিয়া, সিলেটে মাজার ও বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর এবং একজন পীরকে পিটিয়ে হত্যা, কারা হেফাজতে মৃত্যু এবং ক্ষমতাসীন দলের এক নেতাকে নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার জেরে একজনকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। 

তবে সরকারের ১০০ দিনে অপরাধ প্রতিরোধে কিছু উদ্যোগ বা পদক্ষেপের কথাও উঠে এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে সরকার গঠনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ঘোষণা; কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা। পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার শুরু এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি পুলিশ বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এবং মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা; এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জোরালো ভূমিকা পালনের নির্দেশ। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন টিআইবির পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র গবেষক জুলকারনাইন, অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, রাজিয়া সুলতানা ও শহীদুল ইসলাম।


আমার বার্তা /জেএইচ