সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয়
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকায় সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর, বহুমাত্রিক ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিকরা।
গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী এবং তার পদে নবনিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ, বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাবেক আমলা, ব্যবসায়ী এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
সিঙ্গাপুরের বিদায়ী ও নবাগত কূটনীতিক উভয়েই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম দিকের সরকারি কর্মসূচির একটি হিসেবে সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস উদযাপনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, গত দুই বছরে তাঁর পূর্বসূরি মিচেল লি এবং তাঁর দলের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর, বৈচিত্র্যময় ও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম দায়িত্ব। এর আগে তিনি কুয়ালালামপুর, বেইজিং, সাংহাই ও তাইপেতে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও জানার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। একই বছর সিঙ্গাপুর আসিয়ান-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করবে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে বিদায়ী কূটনীতিক তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের ৬১তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের জাতীয় অঙ্গীকারের ৬০ বছর পূর্তির কথা তুলে ধরেন। বহুজাতিকতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার মতো মূল্যবোধকে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, আর বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের ক্রমপুঞ্জীভূত বিনিয়োগ প্রায় ৩ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
২০২২ সালের নভেম্বরে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর আওতায় যৌথ কর্মদলের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার কাঠামো তৈরি হয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস, বিমান চলাচল, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা, ভিসা ও কনস্যুলার নেটওয়ার্কিং, রান্নার কর্মশালা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ শিল্প প্রদর্শনীর মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি পাটের ঐতিহ্য ও সিঙ্গাপুরের পেরানাকান সংস্কৃতির সমন্বয়ে সাজানো হয় খাবারের স্টল। সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি চা ও কায়া টোস্ট পরিবেশন করা হয়।
দুই কূটনীতিকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে-বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অর্থনীতি, সংস্কৃতি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিস্তৃত পরিসরে এ সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে আলোচনা করেন।
