১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে চালু হবে ডিজিটাল আইডি: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা 

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তাঁর ভাষ্য, একটি একক ডিজিটাল পরিচয় সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম বা কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার কাজ করছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রেহান আসিফ আসাদ। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্যানেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়ন করতে চাই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির কাজ শুরু করেছে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি। এতে সময় লাগবে, কোনো শর্টকাট নেই। তবে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছি।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, বিশেষ করে সীমান্তের বাইরে এসব ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের পারস্পরিক সম্পর্কও উঠে আসে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয় নয়। ভবিষ্যতে এগুলো সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিজস্ব ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান উপদেষ্টা। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রুয়ান্ডার উদ্যোগের লক্ষ্য জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। আঞ্চলিক আন্তঃসংযোগব্যবস্থার মাধ্যমে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশেও নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহারে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে নিরাপদভাবে এসব অবকাঠামো ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্তপারের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। রুয়ান্ডা সরকারি সেবা গ্রহণ এবং পূর্ব আফ্রিকায় সীমান্তপারের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল পরিচয় ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি সদস্যদেশ অন্তত একটি করে ওয়ালেট চালু করবে। এসব ওয়ালেটের মাধ্যমে নাগরিকেরা নিরাপদে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে এবং দেশের বাইরেও ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করতে পারবেন।

জাতিসংঘের বৃহত্তর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সুরক্ষা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুশাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা।