আগে আওয়ামী লীগ এখন অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে লড়াই: ফখরুল

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আগে নির্বাচন মানেই ছিল নৌকা ও ধানের শীষের মুখোমুখি লড়াই। তবে এবারের লড়াই কোনো দৃশ্যমান প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, বরং এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কালিকাগাঁও ডি হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি প্রচারণাকালে মির্জা ফখরুল এসব বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে আমরা নৌকা আর ধানের শীষের লড়াই করতাম। সেই লড়াই ছিল প্রকাশ্য ও স্পষ্ট। কিন্তু এবার লড়াই হচ্ছে অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে। আমরা বুঝতেই পারি না কারা আমাদের সামনে আসছে।’তিনি বলেন, ‘এক সময় নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার বিরুদ্ধেও আমরা নির্বাচন করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে জোটের রাজনীতির কারণে আর সেই লড়াই হয়নি।’ 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট আখ্যায়িত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ জিয়া ছিলেন এ দেশের একজন যোগ্য ও সাহসী শাসক। তার সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একইভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন। তাকে নির্যাতন করা হয়েছে, জেলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি বা কারও কাছে মাথানত করেননি।’ 

তারেক রহমান সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমান একজন তরুণ, উদ্যমী ও দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চান। আপনারা তাকে সুযোগ দিন।’

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কেন নির্বাচন করছেন—এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন কেন আমি ঠাকুরগাঁও-২ আসনে, আমার বাবার আসনে নির্বাচন করি না। আমি বলি, আমি যার সঙ্গে একবার গাঁটছড়া বাঁধি, বাঁচবো-মরবো সেখানেই।’ 

স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই মাঠে আমার অনেক রাজনৈতিক স্মৃতি আছে। এখানে বসে আমরা বহু সভা করেছি। তখনকার বিএনপি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী।’

নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চাই, কৃষির উন্নয়ন করতে চাই। এতে আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হবে।’ 

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। কখনো হেরেছি, কখনো জিতেছি। সামনে যে নির্বাচন আসছে, আপনারা নির্ভয়ে হিন্দু-মুসলিম এক হয়ে ভোট দিতে যাবেন।’তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির মহাসচিব। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য আরও বেশি কাজ করার সুযোগ পাবো। আমরা সবাই মিলে এই জেলার উন্নয়নে কাজ করবো।’ 

এ সময় দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই