১২ তারিখের নির্বাচন জাতির টার্নিং পয়েন্ট: শফিকুর রহমান

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট। আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারিতে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি হলো গণভোট, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামি। আপনারাই বলুন, গোলামি না আজাদী? গোলামি না আজাদী? ইনশা আল্লাহ, এ দেশের মানুষ আজাদী চায়। আমাদের যুবসমাজ আজাদী চায়। বুক পেতে দিয়ে তারা লড়াই করে প্রমাণ করেছে অন্যায়, দানবীয় শক্তি কিংবা আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশের যুবসমাজ কখনোই মাথা নত করবে না।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মাগুরা জেলা জামায়াত আয়োজিত মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই জাতিকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিয়েছে। আজ আমাদের দেশের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়। বিচার বিভাগ কার্যত ভেঙে পড়েছে। সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর এক অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক, বীমা, করপোরেট সেক্টর ও শিল্পখাত সবকিছুই পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্র ও জনগণ আজ চরম ক্ষতির মুখে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতি বছর নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে পেশ করতে বাধ্য থাকবেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষের জন্যই আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে। যে অপরাধে একজন পিয়নের বিচার ও শাস্তি হবে, একই অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেও একই বিচার ও একই শাস্তি কার্যকর হবে, ইনশা আল্লাহ।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে নারীদের উদ্দেশে বলেন, আল্লাহ যদি জনগণের ভোটের মাধ্যমে তাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশা আল্লাহ  সেই আমানতের ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নারীদের চলাফেরা, কর্মস্থলে মর্যাদা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো জালিমকে আড়চোখে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হবে না এবং নারীদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর হাত দেওয়ার দুঃসাহস যেন কেউ না করতে পারে—সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা চাই তোমাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলতে। সম্মানের কাজ সৃষ্টি করে সেই কাজ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তোমরা যেন আত্মগর্বের সঙ্গে বলতে পারো, আমরা এই দেশের গর্বিত নাগরিক।

বক্তব্যের শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মাগুরার দুটি সংসদীয় আসনে ১১–দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি মাগুরা-১ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল মতিন এবং মাগুরা-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ওরফে এম বি বাকেরকে উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং দুটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/জেএইচ