গণভোট বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আওয়ামী লীগ: মঞ্জু
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান এবং ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু দাবি করেছেন, আসন্ন গণভোটের রায় যদি ‘হ্যাঁ’ হয় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী শহরের খেজুরিয়ার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মঞ্জু উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমানে ‘নো ভোট’ বা গণভোট বর্জনের প্রচার চালালেও ইতিহাসের শিক্ষা বলছে, একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এলেই তারা রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। ১৯৭৫ সালের ভয়াবহ রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল বলেই তারা ফিরে আসতে পেরেছিল বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু জুলাই সনদকে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি কল্যাণের পথ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই সনদ বাস্তবায়িত না হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাহত হবে এবং এতে ভবিষ্যতে সকল দলের জন্যই বিপদ ঘনীভূত হতে পারে।
তিনি ভোটারদের প্রতি কোনো দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য না দেখিয়ে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুটপাটের বিচার প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের নিজের কল্যাণ এবং ঐতিহাসিক দায় থেকে মুক্তির জন্য এই অপরাধগুলোর বিচার হওয়া অপরিহার্য। তিনি তুলনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির মতো আরেকটি গণহত্যার দায় এখন দলটির ওপর চেপে বসেছে।
এই দায়মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের পথে বাধাগুলো দূর হবে না। তিনি বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে একটি বৃহত্তর ঐক্যের মধ্যে আসার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ফেনী জেলার স্থানীয় সমস্যা ও সংকট নিয়েও মঞ্জু তার নির্বাচনী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জেলার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, তীব্র গ্যাস সংকট এবং যানজটের মতো সমস্যাগুলো নিরসনে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান স্থবিরতা দূর করতে তার জোটের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, সাবেক আমির একেএম সামছুদ্দিন এবং ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটের প্রচার এবং নির্বাচনী কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জোটের নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ধারার সূচনা করবে।
আমার বার্তা/এমই
