বিমানবন্দরে আটক জামায়াত নেতার কাছে ছিল ৭৪ লাখ টাকা: পুলিশ

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

নির্বাচনের আগের দিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনের ব্যাগে পাওয়া গেছে ৭৪ লাখ টাকা।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক করার পর প্রাথমিক ভাবে জেলা জামায়াত আমির বলেছিলেন তার কাছে ৫০ লাখের বেশি টাকা আছে। পরবর্তীতের গণনার পর সেখানে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

ঢাকা থেকে আগত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বেলা এগারোটায় বেলাল উদ্দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। অবতরণের পরপরই যৌথবাহিনীর তল্লাশি চালানো হলে তার বহনকৃত ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। পরে টাকা গণনার কাজ শেষে মোট ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত অর্থের উৎস এবং এই অর্থ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অবস্থার অবনতি হলে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে, জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হওয়া টাকা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়, এগুলো তার ব্যবসার টাকা। এছাড়া ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “টাকা গণনার কাজ শেষে তার কাছে মোট ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এই অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এদিকে ভোটের আগের দিন বিপুল পরিমাণ টাকাসহ জামায়াত নেতাকে আটকের বিষয়ে সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, 'বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তসাপেক্ষ। যদি প্রমাণিত না হয় যে টাকাটি চোরাই, ঘুষ বা অন্য কোনো অবৈধ উৎসের, তাহলে কেবল টাকা বহন করাই অপরাধ নয়।'

তিনি আরও বলেন বলেন, 'কোনো ব্যক্তির কাছে বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া গেলে সেটি অবৈধ কি না, তা পুলিশই তদন্ত করে বলতে পারবে। টাকাটি চোরাই, লুট করা বা অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে স্পষ্ট করতে পারবে।'


আমার বার্তা/এমই