৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাদিক কায়েমসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ছাত্রদলের

ভুয়া পেজ চালানোর অভিযোগে

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সভাপতি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম এবং তার কয়েকজন ‘সহযোগীর’ বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা পেজ চালানোর অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে ছাত্রদল। রোববার (২৬ এপ্রিল) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে তারা এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল আলোচিত পেজ ‘ডিইউ ইউনসাইডার’ ডিইউ অবইজারবার’সহ একাধিক পেজের এডমিনের পরিচয় সংবলিত একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।

যেখানে এডমিন হিসেবে ছাত্রশিবিরের আইটি বিষয়ক সম্পাদক হাসান আল বান্নাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ফয়সাল উদ্দিন এবং আহমেদ জুবায়ের নামের একজনকে দেখা যায়। এই পেজগুলো থেকে গত দেড়বছরে একাধিক প্রোপাগান্ডামূলক বার্তা, ফটোকার্ড ও ভিডিও ছাড়া হয়েছিল।

অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে যে কয়েকজনের নামে অভিযোগ পেয়েছি, তাদের নাম উপাচার্যের কাছে দিয়েছি। উপাচার্য আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংঘবদ্ধ প্রচারণা চালানো হয়েছে। এটি প্রথম শুরু হয়েছিল, 'জিরো পারসেন্ট কন্ট্রিবিউশন, হান্ড্রেড পারসেন্ট সেলিব্রেশন' এই বক্তব্য দিয়ে। কিন্তু আমরা দেখলাম, ফ্যাসিবাদী সরকারের দীর্ঘায়িত করতে তারাই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, তাদের প্রথম টার্গেট ছিল আমার বোনেরা। কেবল ছাত্রদল নয়, অন্য সকল সংগঠনের নারী নেত্রী এমনকি যারা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখদের টার্গেট করে বিভিন্ন অপতথ্য ছড়িয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা রয়েছে, আমরা দেখেছি, তারাই এসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডামূলক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক এবং যোগানদাতা। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং তার সহযোগীরা এসব পেজ পরিচালিত করে। এটি উন্মোচিত হওয়ার পর আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ব্যাপকভাবে ভুলুণ্ঠিত হয়েছে।

নাহিদ বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগেও এসব পেজ বন্ধ করা আমাদের দাবি ছিল। আমরা সাবেক উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানের কাছে এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি; যেন তিনি ব্যবস্থা নেন। কিন্তু তারা সে বিষয়ে ন্যূনতম কর্ণপাতও করেনি। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। শুধু এই গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডামূলক মিথ্যা রাজনীতির কারণে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর পেছনে সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করছে এই গুপ্ত রাজনীতি।

তিনি উল্লেখ করেন, এগুলো যদি বন্ধ না হয়, তাহলে শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে না। এজন্য আমরা উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছি, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকে ব্যবহার করে যে পেইজগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে এর সাথে সাদিক কায়েমসহ তার সহযোগী যারা জড়িত,, তাদের বিরুদ্ধে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।



আমার বার্তা/এমই