নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির প্রমাণ চেয়েছেন। আমি ধরেই নিলাম তিনি নিজে কোন দুর্নীতির সাথে জড়াননি। কিন্তু তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেকে ও সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা দুর্নীতি, তদবির বাণিজ্যে জড়িয়েছেন। এমনকি তার সাবেক পিও আতিক মোর্শেদের কর্মকাণ্ড নিয়েও অনেক অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। 

আজ (বুধবার) ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লিখেছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। 

তিনি আরও লিখেছেন, বিভিন্ন জায়গায় নিজস্ব সার্কেলের লোক বসানো ও নিজের মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অন্য মন্ত্রণালয়ের রদবদলেও তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে পরবর্তীতে বেশকিছু অভিযোগ গণমাধ্যম এসেছে। তিনি নিজেও বলেছিলেন, কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি। এসব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আসছে। নাহিদ ইসলাম তাদের নিয়োগ কর্তা ছিলেন। সুতরাং তিনি কি এসবের দায় এড়াতে পারেন? এছাড়া তিনি নিজেই বলেছিলেন, বিভিন্ন ধনী ব্যক্তিরা এনসিপিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন! সেই ধনী ব্যক্তি আসলে কারা? তারা কি এমনি এমনি এনসিপিকে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছেন? 

শেখ বশির উদ্দিনকে উপদেষ্টা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান বলেন,  শেখ বশির উদ্দিন তো এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না যে, তাকে গণঅভ্যুত্থানের সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা করা লাগবে। তাকে কেন বাণিজ্য উপদেষ্টা করা হয়েছিল? তার শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে এনসিপি কি প্রতিনিয়ত অনুদান পেয়ে থাকে? আর সব থেকে বড় বিষয় তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন সময়ে এনসিপি গঠন করেছেন। এটা বড় ধরনের নৈতিক অপরাধ।

নাহিদ যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোন সংস্কার হয়েছিল? প্রশ্ন রেখে রাশেদ খান বলেন,  এই মন্ত্রণালয়ের ১৬ বছরের দুর্নীতির তথ্য তিনি জানাতে পেরেছিলেন? বরং তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সময় যাকে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে বসিয়ে আসলেন, তিনি দুটো টেলিভিশন চ্যানেলকে শেখ হাসিনার আমলের আইনে লাইসেন্স দিলেন। এর দায় কি নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন? 

বিএনপির এই নেতা বলেন, এছাড়া নাহিদ বিচার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার অঙ্গীকার করে সরকারে গিয়েছিলেন, কিন্তু এসবের কিছু না করেই আবার পদত্যাগ করলেন। সুতরাং নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন।