
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুর্নীতিগ্রস্ত, এটি পুরোনো কথা। দুর্নীতির কথা বাদ দেওয়া হলে এটি চরম অলস সংস্থা বলে মনে করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস এন্ড ইকোনমিক্সের ডিন প্রফেসর ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।
এই বিশ্লেষক বলেন, নতুন করের আওতা না বাড়িয়ে এনবিআর গরিবের থেকে নেয়ার পলিসিতেই বেশি জোর দিচ্ছে। তারা পারলে পুরোটাই পরোক্ষভাবে ভ্যাট দিয়ে আদায় করে নিতে চায়। এতে বস্তুতপক্ষে গরিবের ওপর থেকে বারবার ভ্যাট আদায় হচ্ছে।
রোববার (২৪ মে) ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
প্রফেসর ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, বর্তমান কর কাঠামোতে গরিবের ওপর ভ্যাট বেশি পড়ে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যে গরিবের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ভ্যাট নিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে দরকার প্রয়োজনীয় বাজেট ঘোষণা। বড় বাজেট দরকার নেই। বাজেট ছোট হলেও যদি কোয়ালিটিফুল হয়, সেটিই হবে দেশের মানুষের প্রত্যাশার বাজেট।
এই বিশ্লেষক বলেন, অগ্রিম আয়কর বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ানো সমাধান না। ট্যাক্সের হার বাড়ানো বাহাদুরিও নয়। ট্যাক্সের আওতা বাড়ান, যারা দিচ্ছে তাদের ওপর বাড়তি চাপিয়ে দিয়েন না। যারা দিচ্ছে না, তাদের থেকে আদায় করুন।
একেএম ওয়ারেসুল করিম আরও বলেন, আমাদের দেশে জুনে যখন বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়। পরে ডিসেম্বরে সেটি সংশোধন করে কমানো হয়। তখন তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা উচিত। কেন তারা এত বড় বাজেট দিলো, যেটি আদায় সম্ভব হবে না। এই জবাবদিহিতা থাকা উচিত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সভার সভাপতি ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত বাজেট। নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে আগামী বাজেট হবে প্রথম বাজেট। আমরা আশা করবো, আগামী বাজেট যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর যতগুলো বাজেট হয়েছে, সেগুলো ছিলো ঋণ নির্ভর। আমরা আশা করবো, আগামী বাজেটটি তেমন হবে না। আমরা দেশের মানুষের ওপর ঋণ চাপিয়ে দেওয়ার বাজেট থেকে বেরিয়ে আসবো বলে বিশ্বাস রাখছি।

