দাম্পত্যের মাধুর্য তুলে ধরা হয়েছে কোরআনের যে ৮ আয়াতে

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়, বরং মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত নারী ও পুরুষের মধ্যকার পবিত্র ও হালাল সম্পর্ক। বিয়ের মাধ্যমে চিরস্থায়ী ভালোবাসা ও আজীবন সাহচর্যের এক অদম্য অঙ্গীকার করেন স্বামী-স্ত্রী। 

পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর এই সম্পর্ককে ভালোবাসার বিশুদ্ধতম রূপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিয়ে যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর সম্পর্ক, তা কোরআনের বেশ কিছু আয়াতের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পবিত্র কোরআনে দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এমন ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিচে আলোচনা করা হলো—

১. বিয়ে একটি প্রশংসনীয় কাজ

আল্লাহ তায়ালা সুরা আন-নূরের ৩২ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করো। তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।

২. জীবনসঙ্গীর মাঝে মানসিক প্রশান্তি

সুরা আর-রূমের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হলো—তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।

৩. একে অপরের পোশাকস্বরূপ

স্বামী-স্ত্রীর গভীরতা বোঝাতে সুরা আল-বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে এক চমৎকার উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরাও তাদের পোশাক। পোশাক যেমন মানুষকে রক্ষা করে এবং সৌন্দর্য বাড়ায়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ঠিক তেমন।

৪. আত্মার অটুট বন্ধন

সুরা আল-আরাফের ১৮৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা খুঁজে পায়।

৫. স্ত্রীর প্রতি দয়া ও সৌজন্য

নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে সুরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ, নারীদের সঙ্গে দয়া ও সৌজন্যের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করো। কোনো কারণে যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে মনে রেখো—হয়তো তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ, যার মধ্যে আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন।

৬. স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভূমিকা

সুরা আন-নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক। আর নেককার স্ত্রীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহর দেওয়া হিফাজতে তারা স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেদের পবিত্রতা ও সম্পদ রক্ষা করে।

৭. সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা

সুরা আন-নিসার ১ নম্বর আয়াতে মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, হে মানুষ, তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের উভয় থেকে তিনি বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন।

৮. আদর্শ পরিবারের দোয়া

সুরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতে একটি সুন্দর দোয়ার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে মুমিনরা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিময় করো এবং আমাদের খোদাভীরু লোকদের নেতা বানিয়ে দাও। যারা ধৈর্যের সঙ্গে সংসার ধর্ম পালন করে, তারা জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ লাভ করবে এবং সেখানে তাদের অভিবাদন ও শান্তি জানানো হবে।

পরিশেষে বলা যায়, বিবাহ হলো ভালোবাসা, দয়া, সহমর্মিতা এবং একে অপরের পাশে থাকার এক সুদৃঢ় চুক্তি। পবিত্র কোরআন স্বামী-স্ত্রীকে সব সময় একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ন্যায়পরায়ণ হওয়ার উৎসাহ দেয়। পারস্পরিক অঙ্গীকার, সততা এবং চেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।